ঢাকা, সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২৬ | ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

চিঠিতে বিস্ফোরক অভিযোগ! ভারতবিরোধী অবস্থানের কারণেই প্রধানমন্ত্রিত্ব হারালেন নেপালের কেপি শর্মা ওলি, আশ্রয়ে সেনা ব্যারাকে গোপন অবস্থান


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ০৩:০৯ পিএম

চিঠিতে বিস্ফোরক অভিযোগ! ভারতবিরোধী অবস্থানের কারণেই প্রধানমন্ত্রিত্ব হারালেন নেপালের কেপি শর্মা ওলি, আশ্রয়ে সেনা ব্যারাকে গোপন অবস্থান

ভারতবিরোধী অবস্থানের কারণেই প্রধানমন্ত্রিত্ব হারাতে হয়েছে— এমন বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন নেপালের সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) নিজের দলের মহাসচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি দাবি করেন, সীমান্ত বিরোধ ও ধর্মীয় ইস্যুতে খোলামেলা অবস্থান নেওয়াতেই তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

জেনারেশন-জেড (জেন-জি) আন্দোলনের চাপে পদত্যাগে বাধ্য হন ওলি। এরপর থেকেই গুঞ্জন ওঠে, তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। তবে সূত্র জানাচ্ছে, তিনি এখনও নেপালেই আছেন এবং রাজধানী কাঠমান্ডুর শিবপুরি সেনা ব্যারাকে আশ্রয় নিয়েছেন।

চিঠিতে তিনি লেখেন,
“আমি যদি লিপুলেখ নিয়ে প্রশ্ন না তুলতাম, অযোধ্যা ও দেবতা রাম নিয়ে মন্তব্য না করতাম, তাহলে হয়তো এখনও ক্ষমতায় থাকতাম।”

তার দাবি, “আমি প্রধানমন্ত্রিত্ব হারিয়েছি কারণ আমি ভারতের সেই দাবি মানিনি যে রাম ভারতের অযোধ্যায় জন্মেছিলেন। আমি বলেছিলাম, রাম নেপালের বীরগঞ্জে জন্মেছিলেন।”

নেপাল-ভারতের সীমান্ত বিরোধ বহু পুরনো। বিশেষ করে লিপুলেখ গিরিপথ ও কালাপানি অঞ্চল ঘিরে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন চলছে। ১৮১৬ সালের সুগৌলি চুক্তির ভিত্তিতে সীমান্ত নির্ধারণ হলেও কালী নদীর উৎস নিয়ে এখনো দ্বন্দ্ব মেটেনি। নেপালের দাবি, নদীর উৎপত্তি লিম্পিয়াধুড়া থেকে, তাই লিপুলেখ, কালাপানি ও লিম্পিয়াধুড়া সবই নেপালের অংশ।

২০২০ সালে কেপি ওলির সরকার স্পষ্টভাবে ঘোষণা দেয়, মহাকালী নদীর পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত লিম্পিয়াধুড়া, লিপুলেখ ও কালাপানি নেপালের অবিচ্ছেদ্য অংশ। নেপাল ভারতকে অনুরোধ করেছিল ওই অঞ্চলে রাস্তা নির্মাণ ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ করতে। কিন্তু ভারত জানায়, ১৯৫৪ সাল থেকে তারা ওই পথ ব্যবহার করে আসছে চীনের সঙ্গে বাণিজ্যের জন্য।

একই বছর জুলাইয়ে ওলি আরও বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “রাম ভারতের নন, নেপালের নাগরিক ছিলেন। ভারতের অযোধ্যা ভুয়া; প্রকৃত অযোধ্যা নেপালের পূর্ব বীরগঞ্জে অবস্থিত।”

তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যদি রামের জন্ম ভারতে হয়, তবে তিনি কীভাবে নেপালের জনকপুরের সীতাকে বিয়ে করলেন? প্রাচীন আমলে দূরবর্তী বিয়ে হতো না। ফোন বা যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকলে এ ধরনের বিয়ে সম্ভবই ছিল না।”

এই বক্তব্যে ভারতীয় রাজনীতিক ও সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। অনেকে একে “ইতিহাস বিকৃতি” এবং “রাজনৈতিক স্টান্ট” বলে উল্লেখ করেন।

ক্ষমতা হারানোর পরও কেপি শর্মা ওলি তার অবস্থান থেকে একচুলও পিছু হটেননি। বরং আরও জোর দিয়ে বলছেন, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরোধিতাই ছিল তার প্রধান ‘অপরাধ’। বিশ্লেষকদের মতে, ওলির এই অবস্থান নেপালের রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা ও উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।