এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ০৬ অক্টোবর, ২০২৫, ১০:১০ পিএম
ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতের এক বছর পার না হতেই উঠে এলো ভয়াবহ পরিসংখ্যান। ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত তাদের ১,১৫০ জন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১,০৩৫ জন নিয়মিত সেনা, আর বাকিরা বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার সদস্য ছিলেন।
এই তথ্য সোমবার (৬ অক্টোবর) প্রকাশ করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহত সেনাদের মধ্যে অনেকে প্রাণ হারিয়েছেন গাজা উপত্যকা, লেবানন ও অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন সংঘর্ষে।
তবে ইসরাইলি দৈনিক জেরুসালেম পোস্ট তাদের সামরিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা আরও বেশি—১,১৫২ জন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহত সেনাদের প্রায় ৪০ শতাংশের বয়স মাত্র ২১ বছর, আর অন্তত ১৪১ জনের বয়স ৪০ বছর বা তার বেশি।
সূত্রগুলো জানায়, নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন রিজার্ভ বাহিনীর সদস্য ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা, এমনকি অনেকেই অবসরের বয়স পেরিয়ে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
ইসরাইলের অভ্যন্তরেও যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দেশটির গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সহিংসতায় অন্তত ৮০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, আর ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ মারাত্মক মানসিক ট্রমায় ভুগছেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই সহিংসতার সূচনা হয়েছিল ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর, যখন ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠনগুলো ‘তুফানুল আকসা’ নামে এক সমন্বিত অভিযান শুরু করে। স্থল, নৌ ও আকাশপথে একযোগে হামলা চালিয়ে তারা ইসরাইলের বিভিন্ন বসতিতে প্রবেশ করে এবং বহু ইসরাইলিকে বন্দী করে নিয়ে যায়।
এই হামলার পেছনে ছিল দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও প্রতিরোধ—আল আকসা মসজিদে ইসরাইলিদের বারবার আগ্রাসন, কুদস শহরের পবিত্র স্থাপনাগুলোর অবমাননা এবং অবৈধ বসতি নির্মাণের প্রতিবাদে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে এই অভিযান চালায়।
বর্তমানে ইসরাইলের সামরিক ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে দেশজুড়ে চলছে তীব্র আলোচনা। বিশ্লেষকদের মতে, এটি সাম্প্রতিক ইতিহাসে ইসরাইলের সবচেয়ে বড় সামরিক প্রাণহানির ঘটনা, যা দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতি আরও নড়বড়ে করে তুলেছে।
I