ঢাকা, মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

স্টেলথ বোমারু বিমানের মাধ্যমে চীন বৈশ্বিক পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের পথে


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ১২ অক্টোবর, ২০২৫, ০৩:১০ পিএম

স্টেলথ বোমারু বিমানের মাধ্যমে চীন বৈশ্বিক পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের পথে

চীনের সামরিক আধুনিকায়নের উচ্চাকাঙ্ক্ষা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের বাহিনীও দ্রুত আধুনিক হচ্ছে। এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছে বোমানিবাহী বিমান বাহিনীকে আপগ্রেড করা। রাশিয়ার পুরনো টু-১৬ অনুকরণে তৈরি এইচ-৬ বিমান দিয়ে এখন বৈশ্বিক ক্ষমতা প্রদর্শন করা সম্ভব নয় — এ কথাটা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিজেও বোঝেন।

তাই চীন একই সঙ্গে দুটি নতুন বোমারু বিমান উন্নয়ন করছে। একটি হলো আন্তঃমহাদেশীয় স্টেলথ বোমার এইচ-২০, আরেকটি হলো মধ্যপাল্লার স্টেলথ বোমার JAH-XX। এই দুই প্রকল্প স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে, চীন প্রশান্ত মহাসাগরের কৌশলগত মানচিত্র নতুন করে আঁকতে চায় এবং শক্তির ভারসাম্য নিজের পক্ষে টানতে চেষ্টা করছে।

এইচ-২০-কে অনেক বিশ্লেষক ‘গেম-চেঞ্জার’ হিসেবে দেখেন। যদিও প্রকল্পটি গোপনীয়তা বজায় রেখেছে, স্যাটেলাইট ইমেজ থেকে এর কিছু কনফিগারেশন উন্মোচিত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি ফ্লাইং-উইং স্টেলথ ডিজাইনের বোমার, যা ইউএসএর নর্থরপ বি-২ স্পিরিট বা বি-২১ রেইডার-এর সমতুল্য হতে পারে।
বিশ্লেষকদের অনুমান, এইচ-২০ প্রায় ৫,০০০ কিমি পর্যন্ত অপারেশনাল রেঞ্জ রাখতে পারবে। অর্থাৎ, চীনের মূল ভূখণ্ড থেকে উড্ডয়ন করে গুয়াম, অস্ট্রেলিয়া—even হাওয়াই—পর্যন্ত হামলা সম্ভব হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, বিমানটি পারমাণবিক ও প্রচলিত—উভয় ধরনের একটি করা ক্যারিয়ার হবে।

যদি এসব ধারণা ঠিক হয়, তবে এটি চীনের প্রথম কৌশলগত (স্ট্র্যাটেজিক) বোমারুরূপে বিবেচিত হবে, যা দেশকে স্থল, সমুদ্র ও আকাশ—সকল স্তরে পারমাণবিক হামলার সক্ষমতা অর্জন করে দেবে। এটা চীনের সামরিক ইতিহাসে যুগান্তকারী ধাপ এবং বৈশ্বিক প্রতিরোধ কাঠামোতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

অপরদিকে, JAH-XX-এর উন্নয়ন শেনইয়াং এয়ারক্রাফট করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে চলছে বলে মনে করা হচ্ছে। এটি দুই-ইঞ্জিনবিশিষ্ট একটি মধ্যপাল্লার স্টেলথ বোমার—যা আঞ্চলিক অপারেশনের জন্য দ্রুত ও সুনির্দিষ্ট আঘাত কর্মসূচি হিসেবে ডিজাইন করা হচ্ছে। JAH-XX-এর সম্ভাব্য পাল্লা ২,০০০ থেকে ৩,৫০০ কিমি এবং বহনক্ষমতা ১০–২০ টন হতে পারে। এটি এইচ-৬ ও এইচ-২০-এর মাঝামাঝি একটি সংযোগকারী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে বলে বিশ্লেষকরা বলেছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, JAH-XX দ্রুত-লঞ্চ করা লক্ষ্যনির্দিষ্ট হামলা এবং পারমাণবিক ও প্রচলিত উভয় ধরনের আঞ্চলিক প্রতিরোধ মিশনের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী হবে। যদি এটি প্রতিদ্বন্দ্বীর আকাশসীমায় প্রবেশ করে টিকে থাকতে পারে, তাহলে ইন্দো-প্রশান্ত অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো জন্য এটি বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

চীন যদি এই প্রকল্পগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন করে, তাহলে তাদের সামরিক ও কৌশলগত অবস্থান আমূল বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব শিথিল হতে পারে এবং চীনের এন্টি-অ্যাক্সেস/এরিয়া-ডিনায়েল) ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।

যুক্তরাষ্ট্র এই প্রকল্পগুলোর ওপর নিবিড় নজর রাখছে। দক্ষিণ চীন সাগরে দ্বীপ নির্মাণ ও বৃহৎ নৌবহর সম্প্রসারণের পাশাপাশি, আধুনিকায়িত স্টেলথ বোমারুবিমান চীনের প্রভাব বাড়িয়ে এশিয়ায় আমেরিকান আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করার সক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে পারে—বিশ্লেষকরা তাই আশঙ্কা করেন।