ঢাকা, মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

মক্কায় বিশাল সোনার খনি আবিষ্কার! সৌদি আরবের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় চমক প্রকাশিত


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ১৩ অক্টোবর, ২০২৫, ০৭:১০ পিএম

মক্কায় বিশাল সোনার খনি আবিষ্কার! সৌদি আরবের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় চমক প্রকাশিত

বিশ্বজুড়ে চমক জাগানো এক আবিষ্কার! সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে মিলেছে বিশাল এক স্বর্ণের খনি। প্রায় ১২৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই খনিজ ভাণ্ডারকে দেশটির ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ আবিষ্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সৌদি আরবের মানসুরা–মাসারাহ সোনার খনির দক্ষিণাঞ্চলে এই নতুন খনি আবিষ্কার ইতোমধ্যেই দেশটির অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। খবর দিয়েছে দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনাল।

রাষ্ট্রীয় খনিজ কোম্পানি ‘মাআদেন’ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে উচ্চমাত্রায় সোনার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ করা নমুনায় দেখা গেছে—প্রতি টন মাটিতে রয়েছে সর্বোচ্চ ২০.৬ গ্রাম সোনা। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী এটি “অত্যন্ত সমৃদ্ধ” সোনার মজুত।

মাআদেনের প্রধান নির্বাহী রবার্ট উইলে বলেন, “এই নতুন আবিষ্কার মক্কাকে বৈশ্বিক সোনার মানচিত্রে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে। এটি অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত—দুই ক্ষেত্রেই ঐতিহাসিক অর্জন।”

বর্তমানে মানসুরা–মাসারাহ খনিতে আনুমানিক ৭০ লাখ আউন্স সোনা মজুত রয়েছে। প্রতি বছর সেখানে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার আউন্স সোনা উত্তোলন করা হয়। নতুন এই আবিষ্কার উৎপাদন ক্ষমতা আরও বহুগুণে বাড়িয়ে দেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, পুরো অঞ্চলজুড়ে ১২৫ কিলোমিটার এলাকা এখন “গ্লোবাল গোল্ড বেল্ট” বা আন্তর্জাতিক স্বর্ণপট্টি হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

এই বিশাল সোনার খনি আবিষ্কারকে সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে এসে দেশটি খনিজ, প্রযুক্তি ও শিল্পখাতকে নতুন চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলছে।

সৌদি শিল্প ও খনিজসম্পদমন্ত্রী বান্দার আলখোরাইফ বলেন, “আমাদের খনিজ খাত এখন বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল সেক্টরগুলোর একটি। এই নতুন সোনার খনি আবিষ্কার সৌদি অর্থনীতির বৈচিত্র্যকরণের যাত্রায় ঐতিহাসিক মাইলফলক হয়ে থাকবে।”

মাআদেন আরও জানিয়েছে, মক্কার কাছের ওয়াদি আল-জাও ও জাবাল শাইবান এলাকাতেও নতুন সোনা ও তামার ভাণ্ডার আবিষ্কৃত হয়েছে। শিগগিরই সেখানে বৃহৎ পরিসরে খনন কার্যক্রম শুরু হতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই স্বর্ণখনি শুধু দেশের অর্থনীতিতে নয়, মানুষের জীবনেও বড় পরিবর্তন আনবে। হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আকর্ষিত হবে। এর ফলে সৌদি আরব আন্তর্জাতিক সোনার বাজারে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করবে।

বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি স্বর্ণের মজুত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে ৮,১৩৩.৫ টন। এরপর রয়েছে জার্মানি ৩,৩৫১ টন, ইতালি ২,৪৫১.৮ টন, ফ্রান্স ২,৪৩৭ টন এবং রাশিয়া (২,৩৩২.৭ টন।

বিশ্লেষকদের ধারণা, সৌদি আরবের এই নতুন স্বর্ণভাণ্ডার বৈশ্বিক বাজারে নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি করবে এবং সোনার আন্তর্জাতিক দামের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।