এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর, ২০২৫, ০৭:১০ পিএম
বিশ্বজুড়ে মানুষ এখন গড়ে ২০ বছর বেশি বাঁচছে ১৯৫০ সালের তুলনায়। ২০৪টি দেশ ও অঞ্চলে মৃত্যুহার কমেছে—তবে এখানেই লুকিয়ে আছে এক ভয়াবহ বৈপরীত্য। কিশোর ও তরুণদের মধ্যে মৃত্যুহার দ্রুত বাড়ছে, আর গবেষকরা একে বলছেন “একটি উদীয়মান বৈশ্বিক সংকট”।
ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশন -এর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণটি প্রকাশিত হয়েছে দ্য ল্যানসেট জার্নালে। গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে নারীদের গড় আয়ু ৭৬.৩ বছর এবং পুরুষদের ৭১.৫ বছর—যা কোভিড-পরবর্তী সময়ে আগের অবস্থানে ফিরে এসেছে।
তবে কোভিড-১৯ এখন আর প্রধান মৃত্যুর কারণ নয়; ২০২১ সালে এটি ছিল এক নম্বরে, কিন্তু ২০২৩ সালে নেমে এসেছে ২০তম স্থানে। এখন বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে আবারও ফিরে এসেছে হৃদরোগ ও স্ট্রোক।
সংক্রামক নয়, অসংক্রামক রোগেই মৃত্যু বাড়ছে
বিশ্বজুড়ে সংক্রামক রোগের কারণে মৃত্যুহার নাটকীয়ভাবে কমেছে। হাম, ডায়রিয়া, যক্ষ্মার মতো রোগ এখন আগের তুলনায় অনেক কম প্রাণ নিচ্ছে।
তবে অসংক্রামক রোগগুলো এখন মৃত্যুর দুই-তৃতীয়াংশের জন্য দায়ী। হৃদরোগ ও স্ট্রোকের হার কমলেও ডায়াবেটিস, কিডনি ও আলঝাইমার রোগ বেড়েছে দ্রুত।
এর পরিচালক ড. ক্রিস্টোফার মারে বলেন, “বিশ্বের জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধ হচ্ছে, আর নতুন ঝুঁকির কারণগুলো বৈশ্বিক স্বাস্থ্যে নতুন যুগের সূচনা করেছে।”
স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও দূষণ: বড় হুমকি
গবেষণা অনুযায়ী, উচ্চ রক্তচাপ, ধূমপান, উচ্চ কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস এবং স্থূলতা—এই পাঁচটি কারণ এখন মৃত্যুর ঝুঁকিতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে।
২০১০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে, অতিরিক্ত ওজনের কারণে রোগের বোঝা বেড়েছে ১১%, আর উচ্চ রক্তে শর্করার কারণে বেড়েছে ৬%।
এছাড়া বায়ুদূষণ, সীসা দূষণ এবং নবজাতকের কম জন্ম ওজনও বড় ঝুঁকি হিসেবে উঠে এসেছে।
উদ্বেগ ও বিষণ্ণতার হার বেড়ে চলায় মানসিক স্বাস্থ্যের প্রভাবও এখন স্পষ্টভাবে মৃত্যুহারে প্রতিফলিত হচ্ছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের ধনী দেশগুলোতে ২০ থেকে ৩৯ বছর বয়সীদের মধ্যে মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি বেড়েছে—মূলত আত্মহত্যা, মাদকাসক্তি ও অ্যালকোহল অতিরিক্ত সেবনের কারণে।
এছাড়া পূর্ব ইউরোপ, ক্যারিবীয় অঞ্চল ও সাব-সাহারান আফ্রিকাতেও কিশোর-তরুণদের মৃত্যুহার বাড়ছে সংক্রমণ ও দুর্ঘটনার কারণে।
৫ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের জন্য প্রধান ঝুঁকি হলো আয়রনের ঘাটতি, অনিরাপদ পানি, খারাপ স্যানিটেশন ও অপুষ্টি।
১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের জন্য শীর্ষ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে অনিরাপদ যৌনতা, কর্মক্ষেত্রের দুর্ঘটনা, স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ ও ধূমপান।
উচ্চ-আয়ের দেশগুলোতে গড় আয়ু যেখানে ৮৩ বছর, সেখানে সাব-সাহারান আফ্রিকায় তা মাত্র ৬২ বছর।
গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, “বিশ্বজুড়ে কিশোর ও তরুণদের স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে অগ্রাধিকার নির্ধারণ জরুরি।”
IHME-এর অধ্যাপক ইমানুয়েলা গাকিদৌ বলেন, “স্বাস্থ্য বৈষম্য কমানোর জন্য যে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা চলছে, তা সম্প্রতি সাহায্য কমে যাওয়ায় ঝুঁকিতে পড়েছে। অনেক দেশ এখনও জীবনরক্ষাকারী ওষুধ, টিকা ও প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য বৈশ্বিক তহবিলের ওপর নির্ভরশীল। এসব সহায়তা বন্ধ হলে বৈষম্য আরও বাড়বে।”