ঢাকা, মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

গাজায় নতুন ত্রাণ নিষেধাজ্ঞা: রাফাহ ক্রসিং বন্ধ, ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৯ ফিলিস্তিনি


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ১৫ অক্টোবর, ২০২৫, ০২:১০ পিএম

গাজায় নতুন ত্রাণ নিষেধাজ্ঞা: রাফাহ ক্রসিং বন্ধ, ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৯ ফিলিস্তিনি

ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি ক্রমেই ভঙ্গুর হয়ে উঠছে। ঠিক এই সময়েই গাজায় নতুন ত্রাণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইসরায়েল, বন্ধ করে দিয়েছে রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং। একইসঙ্গে মঙ্গলবার ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত নয়জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় জাতিসংঘকে ইসরায়েল জানায়, বুধবার থেকে প্রতিদিন মাত্র ৩০০টি ত্রাণ ট্রাক প্রবেশ করতে পারবে—যা পূর্বে সম্মত সংখ্যার অর্ধেক।

গাজায় জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় কার্যালয়ের মুখপাত্র ওলগা চেরেভকো নিশ্চিত করেছেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর  থেকে এই নির্দেশনা এসেছে।

 নোটে বলা হয়েছে, মানবিক অবকাঠামোর জন্য জরুরি না হলে কোনও জ্বালানি বা গ্যাস গাজায় প্রবেশ করতে পারবে না।

আল জাজিরার সাংবাদিক হানি মাহমুদ বলেছেন, “গাজায় দুর্ভিক্ষ চলছে। দিনে ৩০০ ট্রাক ত্রাণ কিছুই বদলাবে না।”

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ গাজা ও মিশরের মধ্যে রাফাহ সীমান্ত ক্রসিংও বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। চিকিৎসা সূত্রের বরাতে আল জাজিরা জানায়, উত্তর ও দক্ষিণ গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত নয়জন ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

গাজা সিটিতে ছয়জন এবং খান ইউনিসে তিনজন নিহত হয়েছেন বলে জানায় হাসপাতাল সূত্র। গাজার শুজাইয়া এলাকায় ইসরায়েলি সৈন্যরা আরও পাঁচজন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে বলেও আল-আহলি আরব হাসপাতাল নিশ্চিত করেছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা “উত্তর গাজায় সেনাদের কাছে আসা হুমকিস্বরূপ ব্যক্তিদের” টার্গেট করেছে।

এই হামলাগুলো ঘটে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার মাত্র চার দিন পর, যা বন্দী বিনিময় এবং আংশিক ইসরায়েলি প্রত্যাহারের পথ খুলে দিয়েছিল।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় নিহতের সংখ্যা ৬৭,৯১৩ জন, আহত ১,৭০,১৩৪ জনের বেশি। ধারণা করা হচ্ছে, আরও হাজারো লাশ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা রয়েছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে আক্রমণে ইসরায়েলে নিহত হন ১,১৩৯ জন, বন্দী হন দুই শতাধিক।

সোমবার যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী হামাস ও ইসরায়েল বন্দী বিনিময় করেছে—প্রায় ২,০০০ ফিলিস্তিনি বন্দী মুক্তি পেয়েছে, আর গাজা থেকে মুক্তি পেয়েছে ২০ জন ইসরায়েলি বন্দী। আরও ১৫৪ জন বন্দীকে মিশরে নির্বাসিত করা হয়েছে।

হামাসের পক্ষ থেকে ২৮ জন মৃত ইসরায়েলি বন্দীর দেহ ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও প্রথমে মাত্র চারটি কফিন হস্তান্তর করা হয়। পরদিন আরও চারজনের মৃতদেহ রেড ক্রসের মাধ্যমে ইসরায়েলে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, “প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মৃতদের ফেরত দেওয়া হয়নি! দ্বিতীয় ধাপ শুরু হচ্ছে এখনই!”

হামাস জানিয়েছে, কিছু মৃতদেহ উদ্ধার করতে সময় লাগছে কারণ অনেক জায়গা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদক গ্যাব্রিয়েল এলিজোন্ডো বলেন, “ইসরায়েল ইতিমধ্যেই হুমকি দিয়েছে, হামাস দেরি করছে এই অভিযোগে তারা গাজায় সাহায্য সীমিত করবে।”

জাতিসংঘ ও রেড ক্রস গাজার সব সীমান্ত খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘের মুখপাত্র জেন্স লারকে জানিয়েছেন, গাজার জন্য ১,৯০,০০০ মেট্রিক টন ত্রাণ প্রস্তুত আছে।

ইউনিসেফের মুখপাত্র রিকার্ডো পাইরেস বলেন, “আমাদের ১,৩৭০টি ট্রাক প্রস্তুত। কিন্তু বাস্তবে দিনে অন্তত ৬০০ ট্রাক ত্রাণ দরকার গাজার মানুষের জন্য।”

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও  জানিয়েছে, “হাসপাতালের চাপ এখনই কমবে না। তাই যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা সামগ্রী পাঠানো জরুরি।”

গাজায় যুদ্ধবিরতির মাঝেও পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে—ত্রাণ সীমিত, মৃত্যু অব্যাহত, আর শান্তির আশায় চোখ রাখছে লক্ষাধিক নিরীহ মানুষ।