এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর, ২০২৫, ০২:১০ পিএম
বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে মঙ্গলবার রীতিমতো অচল অবস্থা। প্রস্তাবিত কৃচ্ছ্রতা পরিকল্পনার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছেন প্রায় ৮০ হাজার মানুষ। তাদের বিক্ষোভে থমকে গেছে বিমান চলাচল, বন্ধ হয়েছে গণপরিবহনও।
পুলিশ জানিয়েছে, হাজারো মানুষ রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন। তারা সরকারের সমাজকল্যাণ কর্মসূচিতে সম্ভাব্য কাটছাঁট ও পেনশন ব্যবস্থার পরিবর্তনের বিরোধিতা করছেন।
সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানায়, বিক্ষোভ কিছু এলাকায় সংঘর্ষে রূপ নেয়। পুলিশ টিয়ার গ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে, অন্যদিকে বিক্ষোভকারীরা আগুনের গোলা ও ধোঁয়া বোমা নিক্ষেপ করেন। এতে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়।
বিক্ষোভকারীদের অনেকের হাতে ছিল “৬৫ বছরে পেনশন পাওয়ার অধিকার চাই” লেখা ব্যানার। কেউ কেউ প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ওয়েভারের ছবিতে লিখেছেন—“পেনশন চুরির জন্য ওয়ান্টেড!”
৫৯ বছর বয়সী এক বিক্ষোভকারী চ্যান্টাল ডেসমেট বলেন, “আমরা এমন এক ভবিষ্যতের দিকে যাচ্ছি যা মোটেও ভালো নয়। সরকারকে এখনই বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে।”
ফ্লাইট বাতিল, গণপরিবহনে ভরাডুবি
বিক্ষোভের প্রভাব পড়েছে সরাসরি পরিবহন ব্যবস্থায়। নিরাপত্তাকর্মীদের ধর্মঘটের কারণে ব্রাসেলস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
গণপরিবহন সংস্থা এসটিআইবি জানিয়েছে, শহরের অধিকাংশ মেট্রো, বাস ও ট্রাম লাইনেও সেবা বন্ধ রয়েছে।
সরকারের কৃচ্ছ্রতা পরিকল্পনায় ক্ষোভ
প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ওয়েভারের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার বাজেট ঘাটতি পূরণে কাটছাঁটের পরিকল্পনা করেছে। এতে পেনশন ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে বড় পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে।
কিন্তু সরকারের এই পরিকল্পনায় ক্ষুব্ধ দেশের শক্তিশালী ট্রেড ইউনিয়নগুলো। তারা দেশজুড়ে বিক্ষোভ ও ধর্মঘটের নেতৃত্ব দিচ্ছে।
১.৫ মিলিয়ন সদস্যবিশিষ্ট ইউনিয়ন এফজিটিবি’র নেতা থিয়েরি বোডসন বলেন, “মানুষের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ এখন পেনশন। সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কর্মসংস্থান ও ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানোর, কিন্তু এখন শুধু ফাঁকা বুলি শোনা যাচ্ছে।”
এক যৌথ বিবৃতিতে ইউনিয়নগুলো আরও জানায়, “এই কৃচ্ছ্রতা আসলে সাধারণ মানুষকে আরও চাপে ফেলবে, কিন্তু ধনীরা আবারও রক্ষা পাবে।”
সরকারের ওপর বাড়ছে চাপ
ডি ওয়েভার কর না বাড়িয়ে ঘাটতি কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু পরিস্থিতি এখন তার বিপক্ষে। সোমবার তার জোট সরকার বাজেট নিয়ে একমতে পৌঁছাতে পারেনি। ফলে প্রধানমন্ত্রী বাধ্য হন মঙ্গলবারের সংসদ অধিবেশনে নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ স্থগিত করতে।
বিক্ষোভকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন—যদি সরকার তাদের দাবি না মানে, তাহলে এই আন্দোলন আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়বে।