ঢাকা, মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

দুই বছর ধরে আগুন-রক্তের গাজা: ১৫টি ভয়াবহ সংকটে টিকে থাকার লড়াইয়ে ফিলিস্তিনিরা!


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ১৫ অক্টোবর, ২০২৫, ০২:১০ পিএম

দুই বছর ধরে আগুন-রক্তের গাজা: ১৫টি ভয়াবহ সংকটে টিকে থাকার লড়াইয়ে ফিলিস্তিনিরা!

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের দুই বছর পার হলেও সেখানে মানবিক বিপর্যয়ের শেষ নেই। দুই বছরের টানা হামলা, অবরোধ ও ধ্বংসযজ্ঞে গাজার মানুষ আজ টিকে থাকার লড়াই চালাচ্ছে আগুন ও রক্তের বন্যার ভেতর দিয়ে।

ইরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম পার্স টুডে জানিয়েছে, এই আগ্রাসনে গাজার সাধারণ মানুষ এখন ১৫টি ভয়াবহ সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে — যা আধুনিক ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব মানবিক বিপর্যয়। এর মূল লক্ষ্য ছিল জনগণের ওপর ভয়াবহ চাপ সৃষ্টি করা, হামাসকে আত্মসমর্পণ করানো এবং ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা।

১️⃣ গণহত্যা ও আহতদের মিছিল

ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৭৬ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত বা নিখোঁজ, আহত হয়েছেন প্রায় ১ লাখ ৬৯ হাজার। অনেকেই স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে গেছেন।

 ২️⃣ খাদ্য ও পানির তীব্র অভাব

গাজায় এখন পরিষ্কার পানি ও খাবার পাওয়া দুষ্কর। শিশু থেকে বৃদ্ধ — সবাই অপুষ্টি ও তৃষ্ণায় ভুগছে।

৩️⃣ স্বাস্থ্যব্যবস্থার পতন

অধিকাংশ হাসপাতাল বন্ধ, ওষুধের অভাব ভয়াবহ। অনেক রোগী সাধারণ চিকিৎসা সুবিধাও পাচ্ছেন না।

 ৪️⃣ ঘরবাড়ি ধ্বংস, তাঁবুতে জীবন

বোমাবর্ষণে হাজারো বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। মানুষকে বাধ্য করা হয়েছে তাঁবুতে ও ধ্বংসস্তূপের পাশে বসবাসে।

৫️⃣ পোশাক ও জ্বালানির ঘাটতি

ইসরায়েল পোশাক, জুতা ও জ্বালানি প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। দৈনন্দিন জীবনযাপন অচল হয়ে পড়েছে।

 ৬️⃣ পরিবহন সংকট

জ্বালানির অভাবে গাজাবাসীরা এখন ঠেলাগাড়ি বা পশু-চালিত গাড়ি ব্যবহার করতে বাধ্য।

 ৭️⃣ চিকিৎসার জন্য গাজা ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

গুরুতর অসুস্থ ও আহতদের গাজা ছাড়ার অনুমতি নেই। ফলে চিকিৎসার অভাবে বহু মানুষ মারা যাচ্ছে।

 ৮️⃣ অর্থনীতির ধস

ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ। মানুষ বাধ্য হচ্ছে বাড়ির জিনিসপত্র বিক্রি বা আত্মীয়দের কাছে সাহায্য চাইতে।

 ৯️⃣ ব্যাংক বন্ধ ও নগদের সংকট

সব ব্যাংক কার্যত অচল। নগদ অর্থের অভাবে কেনাকাটা ও মৌলিক ব্যয়ও সম্ভব হচ্ছে না।

 জনসেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়া

পয়ঃনিষ্কাশন ও আবর্জনা ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি ভয়াবহ মাত্রায় পৌঁছেছে।

 ১১️⃣ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

ইন্টারনেট ও ফোন সংযোগ না থাকায় পরিবারগুলো এক অপরের খোঁজও পাচ্ছে না।

 ১২️⃣ শিক্ষা বন্ধ

সব স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। লক্ষাধিক শিক্ষার্থী শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়েছে।

 ১৩️⃣ বিদ্যুৎহীন গাজা

গাজায় এখন সম্পূর্ণ অন্ধকার। মানুষ সীমিত কিছু জেনারেটরের ওপর নির্ভর করছে।

 ১৪️⃣ মানবিক সাহায্য চুরি

ইসরায়েলি বাহিনী অভিযোগের মুখে— গাজামুখী ত্রাণ সামগ্রী লুট করছে। এতে ত্রাণ সরবরাহে বাধা তৈরি হচ্ছে।

 ১৫️⃣ উত্তর-দক্ষিণ বিভাজন

গাজাকে উত্তর ও দক্ষিণে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। এতে পরিবারগুলো একে অপরের সংযোগ হারিয়েছে।

এই ১৫টি সংকটে গাজা এখন মানবিক ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে। ক্ষুধা, মৃত্যু আর অনিশ্চয়তার মধ্যেও টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে সেখানকার মানুষ।