এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর, ২০২৫, ০৮:১০ পিএম
দক্ষিণ কোরিয়ায় ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসে তাপমাত্রা প্রায় মাইনাসে নেমে যায়। নভেম্বর ও ফেব্রুয়ারি মাসেও গড় তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকে। বাকি ৮ মাস শীত-গ্রীষ্ম মিলিয়ে তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপর ওঠানামা করে, অর্থাৎ এই সময় বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য কাজের সুযোগ রয়েছে। দেশটিতে প্রায় ১০ লাখ শ্রমিকের চাহিদা রয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়া সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বিদেশ থেকে মৌসুমী শ্রমিক বা খণ্ডকালীন কর্মী আনা হবে। মৌসুমী শ্রমিকরা মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত আট মাস কাজ করতে পারবেন। এ সুযোগে বাংলাদেশিরা বিনা খরচে দেশের বাইরে চাকরি পাবেন। তবে সরকারি সমর্থনের অভাবে এখনও অনেকেই যেতে পারছেন না। বর্তমানে বোয়েসেল (বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড) ভাষা শিক্ষার মাধ্যমে স্বল্পসংখ্যক শ্রমিক পাঠাচ্ছে।
জনশক্তি কর্মসংস্থান ব্যুরো (বিএমইটি) সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ১ জুন থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত বোয়েসেলের মাধ্যমে ৩,৭৫৩ জন বাংলাদেশি কর্মী দক্ষিণ কোরিয়ায় চাকরি পেয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রমবাজার ধরে রাখতে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দুটি দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের ব্যবস্থা করতে হবে। এর ফলে বাংলাদেশি শ্রমিকরা নিয়মিত খণ্ডকালীন কাজ করতে পারবেন।
মৌসুমী কর্মীরা প্রতি মাসে প্রায় দেড় লাখ টাকা বেতন পাবেন। আট মাসে রোজগার হবে ১২ লাখ টাকা, যা দেশের রেমিট্যান্সে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দক্ষিণ কোরিয়ায় শুঁটকি প্রক্রিয়াজাতকরণ, সবজি চাষ ও বাজারজাতকরণসহ নানা কাজে খণ্ডকালীন শ্রমিক নেওয়া হচ্ছে। শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভিয়েতনাম, চীন, ফিলিপাইন, ভারতসহ কয়েকটি দেশ থেকে ইতোমধ্যেই শ্রমিক যাচ্ছে।
তবে অনুমোদন জটিলতায় বাংলাদেশি বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি এখনো শ্রমিক পাঠাতে পারছে না। কিছু এজেন্সি বাংলাদেশ দূতাবাসের সত্যায়নের পরও ভিসা জটিলতার কারণে কর্মী পাঠাতে পারছে না।
আজমেরি ওভারসিজের সিইও এ.এম. মাসুদ বলেন, “গত বছর কেএম ইন্টারন্যাশনাল ২,০০০-এর বেশি কর্মী পাঠানোর চেষ্টা করেছিল। ৭০০ কর্মীর পাসপোর্ট জমা নেওয়া হলেও, কোরিয়া সি-৪-৫ ভিসা না দেওয়ায় কেউ যেতে পারেনি। মৌসুমী বা খণ্ডকালীন কর্মীর জন্য ই-৮ ভিসা প্রয়োজন, যা সরকারিভাবে দুই দেশের সমঝোতা স্মারক সইয়ের মাধ্যমে সম্ভব।”
বর্তমানে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কোরিয়ার স্থানীয় সরকার বিভাগের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত হলে বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিয়মিত খণ্ডকালীন চাকরির সুযোগ তৈরি হবে।