ঢাকা, মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

চীন, তুরস্ক ও ফ্রান্স থেকে একসঙ্গে ১৩২টি যুদ্ধবিমান কিনছে ইন্দোনেশিয়া — চমকে উঠেছে বিশ্ব


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ১৭ অক্টোবর, ২০২৫, ০৩:১০ পিএম

চীন, তুরস্ক ও ফ্রান্স থেকে একসঙ্গে ১৩২টি যুদ্ধবিমান কিনছে ইন্দোনেশিয়া — চমকে উঠেছে বিশ্ব

ইন্দোনেশিয়া নিজেদের সামরিক শক্তি বাড়াতে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অস্ত্র চুক্তি করেছে। দেশটি এবার চীন, তুরস্ক ও ফ্রান্স থেকে মোট ১৩২টি যুদ্ধবিমান কিনছে — যা দেশটির প্রতিরক্ষা ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা।

বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী শাফরি শামসুদ্দিন জানান, তারা চীনের তৈরি ৪ দশমিক ৫ প্রজন্মের চেংদু জে–১০সি যুদ্ধবিমান ৪২টি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এটাই প্রথমবারের মতো যখন জাকার্তা পশ্চিমা বিশ্বের বাইরে থেকে যুদ্ধবিমান কিনতে যাচ্ছে।

চীনের পাশাপাশি, ইন্দোনেশিয়া তুরস্ক ও ফ্রান্সের কাছ থেকেও ৪২টি করে যুদ্ধবিমান সংগ্রহ করবে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই দেশটির বিমানবাহিনীতে যুক্ত হবে মোট ১৩২টি আধুনিক যুদ্ধবিমান।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, "আমাদের লক্ষ্য সেনাবাহিনীর পূর্ণ আধুনিকায়ন। খুব শিগগিরই এই নতুন বিমানগুলো জাকার্তার আকাশে উড়বে।" তবে তিনি কেনার চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ করেননি।

৯০০ কোটি ডলারের বিশাল বাজেট অনুমোদন

ইন্দোনেশিয়ার অর্থমন্ত্রী পুরবায়া ইউধি সদেও জানিয়েছেন, চীনা যুদ্ধবিমান কেনার জন্য ৯০০ কোটি মার্কিন ডলার বরাদ্দ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, "সব প্রস্তুত আছে, এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা — কখন বিমানগুলো বেইজিং থেকে জাকার্তায় পৌঁছাবে।"

ভূরাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে সতর্কতা

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই চুক্তি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
ইন্দোনেশিয়া ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের বিশ্লেষক বেনি সুকাদিস বলেন, “পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর দীর্ঘ নির্ভরতার পর চীন থেকে অস্ত্র কেনা ইন্দোনেশিয়ার নিরাপত্তা অভিমুখে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত।”

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “এই পদক্ষেপ দক্ষিণ চীন সাগর ইস্যুতে আঞ্চলিক সংবেদনশীলতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে, যেখানে চীনের প্রত্যক্ষ স্বার্থ রয়েছে।”

পশ্চিমা যুদ্ধবিমানের বিকল্প খুঁজছে ইন্দোনেশিয়া

বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ার বিমানবাহিনীতে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও যুক্তরাজ্যের তৈরি যুদ্ধবিমান রয়েছে, যার বেশিরভাগই পুরোনো এবং প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন রয়েছে।

এর আগে, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে দেশটি ফ্রান্সের দাসো কোম্পানির ৪২টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তি করে। এসব বিমানের প্রথম চালান ২০২৬ সালের শুরুতে হাতে পাওয়ার কথা। পাশাপাশি, ফ্রান্স থেকেই কেনা হবে দুটি স্করপিন ইভলভড সাবমেরিন ও ১৩টি থ্যালেস গ্রাউন্ড কন্ট্রোল রাডার।

অন্যদিকে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান গত জুনে ঘোষণা দেন যে, তুরস্ক ইন্দোনেশিয়ায় ৪৮টি কান যুদ্ধবিমান রপ্তানি করবে। এই বিমানগুলো সম্পূর্ণভাবে তুরস্কেই তৈরি হবে।

চীনা জে–১০সি নিয়ে আগ্রহ

ইন্দোনেশিয়ার বিমানবাহিনী সম্প্রতি চীনা জে–১০সি যুদ্ধবিমানগুলোর সক্ষমতা যাচাই করছে, যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে এগুলো দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে কার্যকরভাবে শক্তিশালী করতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই তিন দেশের যুদ্ধবিমান একসঙ্গে যুক্ত হওয়ায় ইন্দোনেশিয়ার বিমানবাহিনী দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনীগুলোর একটিতে পরিণত হতে পারে।