এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর, ২০২৫, ০৮:১০ পিএম
জাপানের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের জন্ম হলো। দেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী পদে নির্বাচিত হয়েছেন একজন নারী — সানায়ে তাকাইচি। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) জাপানের পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয়ী হয়ে তাকাইচি লিখলেন নতুন ইতিহাস।
দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেন তাকাইচি
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রার্থী তাকাইচি নিম্নকক্ষে পেয়েছেন ২৩৭ ভোট, যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ছিল ২৩৩ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্রেটিক পার্টি অব জাপানের ইউশিহিকো নোদা পান ১৪৯ ভোট।
এরপর রান-অফ ভোটে উচ্চকক্ষেও জয় পান তাকাইচি। সেখানে তিনি পান ১২৫ ভোট — যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজনীয় ভোটের চেয়ে এক ভোট বেশি। ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকাইচি এখন জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী।
পুরুষ-নিয়ন্ত্রিত রাজনীতিতে নতুন সূর্যোদয়
বিবিসি জানায়, এই ঘটনা জাপানের ইতিহাসে একটি “ঐতিহাসিক মুহূর্ত” হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। এতদিন পুরুষ-নেতৃত্বাধীন রাজনীতিতে প্রথমবার নেতৃত্বের শীর্ষপদে উঠলেন এক নারী। ফলে জাপানের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায় সূচিত হলো তাকাইচির নেতৃত্বে।
নতুন জোট সরকার, নতুন আশা
এর আগের দিন সোমবার, ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এবং জাপান ইনোভেশন পার্টি একসঙ্গে জোট সরকার গঠনের চুক্তি স্বাক্ষর করে।
এই চুক্তির পর থেকেই তাকাইচির প্রধানমন্ত্রী হওয়া প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়, যদিও তখনও তাঁর সামনে দুই ভোটের ঘাটতি ছিল।
রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই নেতৃত্বে তাকাইচি
এ মাসের শুরুতে তাকাইচি এলডিপির নেতৃত্ব পান। কিন্তু এর পরপরই দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গী কোমেইতো দল সরকার থেকে সরে দাঁড়ালে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়। দেশজুড়ে শুরু হয় নতুন জোট সরকার গঠনের আলোচনাও।
ট্রাম্পের প্রশংসায় ভাসলেন তাকাইচি
তাকাইচি এলডিপির নেতা হওয়ার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে অভিনন্দন জানান। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, “তাকাইচি একজন সম্মানিত ও জ্ঞানী নারী নেতা — সত্যিই অসাধারণ খবর।”
এর জবাবে তাকাইচি লেখেন, তিনি ট্রাম্পের শুভেচ্ছায় ‘খুব সন্তুষ্ট’, এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে আত্মপ্রকাশ
তাকাইচি সবসময়ই নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরযোগ্য সহযোগী হিসেবে তুলে ধরেছেন। সম্প্রতি তিনি জানিয়েছেন, মার্কিন শুল্ক আরোপ থাকা সত্ত্বেও তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি করতে চান, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে— তাঁর লক্ষ্য দুই দেশের সম্পর্ককে স্থিতিশীল ও দীর্ঘস্থায়ী রাখা।