ঢাকা, সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২৬ | ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

ব্রিটেনের ‘স্টর্ম শ্যাডো’ ক্ষেপণাস্ত্রে রাশিয়ার কারখানায় ভয়াবহ হামলা, উত্তেজনায় ইউরোপ!


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ২২ অক্টোবর, ২০২৫, ০২:১০ পিএম

ব্রিটেনের ‘স্টর্ম শ্যাডো’ ক্ষেপণাস্ত্রে রাশিয়ার কারখানায় ভয়াবহ হামলা, উত্তেজনায় ইউরোপ!

ইউক্রেন এবার সরাসরি রাশিয়ার ভেতরে আঘাত হেনেছে। ব্রিটেন নির্মিত ‘স্টর্ম শ্যাডো’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে দেশটি রাশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক কারখানায় ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেন দাবি করেছে, এটি ছিল তাদের “সবচেয়ে সফল ও কৌশলগত হামলাগুলোর একটি।”

 লক্ষ্যবস্তু ছিল রাশিয়ার ব্রায়ানস্ক কেমিক্যাল প্ল্যান্ট

মঙ্গলবার ২২ অক্টোবর ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রটি রুশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে লক্ষ্যবস্তুতে সরাসরি আঘাত হানে।

লক্ষ্যস্থল ছিল ব্রায়ানস্ক কেমিক্যাল প্ল্যান্ট, যেখানে রুশ বাহিনীর জন্য গানপাউডার, বিস্ফোরক এবং রকেট জ্বালানির উপাদান তৈরি হয়।

ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর ভাষায়, এটি ছিল রাশিয়ার সামরিক–শিল্প কমপ্লেক্সের একটি মূল কেন্দ্র।

রাশিয়া এখনো হামলার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে স্থানীয় সূত্রগুলো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ইঙ্গিত দিয়েছে।

 ইউক্রেনের দাবি: ‘রাশিয়ার যুদ্ধযন্ত্রে সরাসরি আঘাত’

ইউক্রেনীয় সেনা সদর দপ্তর বলছে, এটি ছিল বৃহৎ পরিসরের যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলার অংশ।
তাদের ভাষায়—“মস্কোর যুদ্ধযন্ত্র চালু রাখতে যে অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, সেগুলোতে আঘাত হানাই এখন আমাদের কৌশল।”

পশ্চিমা অস্ত্র নিয়ে রাশিয়ার হুঁশিয়ারি

রাশিয়া বহুদিন ধরে পশ্চিমা দেশগুলোকে সতর্ক করে আসছে—

“ইউক্রেনকে এমন অস্ত্র দেওয়া মানে যুদ্ধের আগুন আরও বাড়ানো।”

কিন্তু ইউক্রেনের মিত্ররা থামছে না। তারা মনে করে, রাশিয়ার সামরিক কাঠামোতে সরাসরি চাপ না দিলে যুদ্ধ থামবে না।

ইউরোপীয় নেতাদের কড়া বার্তা

একই দিনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারসহ ইউরোপীয় নেতারা ঘোষণা দেন,

“যতক্ষণ না পুতিন শান্তি আলোচনায় আসছেন, ততক্ষণ তার অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা শিল্পের ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে।”

এই বিবৃতিতে ইউক্রেন, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, পোল্যান্ড, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, নরওয়ে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা একমত হন যে—
যুদ্ধের আগে, চলাকালীন এবং পরেও ইউক্রেনকে সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে থাকতে হবে।

 ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠকেও উত্তাপ

এই ঘটনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনায় এসেছে আরেক খবর।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বৈঠকে বসেন টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ ইস্যুতে।
কিন্তু ট্রাম্প এতে অনীহা প্রকাশ করেন, ফলে ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের পরিকল্পনাও স্থগিত হয়ে যায়।

 রাশিয়ার পাল্টা হামলা

হামলার পরদিন সকালেই (২৩ অক্টোবর) রাশিয়া আবারও কিয়েভে বিমান হামলা চালায়।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো জানান, শহরের আকাশে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল এবং বহু বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

 যুদ্ধের ২ বছর পেরিয়ে নতুন অধ্যায়

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ এখনো চলছে।
রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ এলাকা দখলে রেখেছে, যার মধ্যে ২০১৪ সালে দখল করা ক্রিমিয়া উপদ্বীপও রয়েছে।
এই স্টর্ম শ্যাডো হামলাকে বিশ্লেষকরা বলছেন—“ইউক্রেনের প্রতিরোধ যুদ্ধে নতুন ধাপ।”
কারণ এটি রাশিয়ার ভেতরে তাদের সামরিক সক্ষমতাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছে।