ঢাকা, মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

গাজায় মৃত জিম্মিদের দেহ উদ্ধারে মিশর ও রেডক্রস! ইসরায়েলের অনুমতি, শুরু হয়েছে খোঁজাখুঁজি


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ২৭ অক্টোবর, ২০২৫, ০১:১০ পিএম

গাজায় মৃত জিম্মিদের দেহ উদ্ধারে মিশর ও রেডক্রস! ইসরায়েলের অনুমতি, শুরু হয়েছে খোঁজাখুঁজি

অক্টোবরে হামাসের হামলায় নিহত ও অপহৃত জিম্মিদের মৃতদেহ উদ্ধারের কাজে অবশেষে মিশর ও আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির আইসিআরসি বিশেষ দলগুলোর অংশগ্রহণের অনুমতি দিয়েছে ইসরায়েল। রবিবার ২৬ অক্টোবর ইসরায়েলি মিডিয়ায় জানানো হয়, হামাস সদস্যরাও আইসিআরসি দলের সাথে যৌথভাবে এই অনুসন্ধান কাজে ইসরায়েলি সেনা আইডিএফ নিয়ন্ত্রিত গাজা অঞ্চলে প্রবেশ করতে পারবে।

ইসরায়েল সরকার স্পষ্ট করেছে, অনুসন্ধান দলগুলোকে গাজার ভেতরে আইডিএফ নিয়ন্ত্রিত এলাকা এবং তথাকথিত 'ইয়েলো লাইন'-এর বাইরেও খোঁজাখুঁজি চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

হামাস ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপ অনুযায়ী ২৮ জন মৃত ইসরায়েলি জিম্মির মধ্যে ১৫ জনের মৃতদেহ ফেরত দিয়েছে। চুক্তি মোতাবেক বাকি মৃতদেহগুলোও ফেরত দিতে হবে। হামাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে তারা মিশরীয় কর্তৃপক্ষের সাথে এই বিষয়ে সমন্বয় করছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রসঙ্গে সতর্ক করে বলেছেন, হামাসকে অবশ্যই দ্রুত বাকি মৃতদেহগুলো ফেরত দিতে হবে, 'নাহলে এই মহান শান্তি প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত অন্যান্য দেশগুলো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।'

এক ইসরায়েলি মুখপাত্র জানান, মৃতদেহগুলো শনাক্ত করতে মিশরের বিশেষ দলকে আইসিআরসি-র সাথে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তারা 'ইয়েলো লাইন'-এর বাইরে অনুসন্ধান কাজে এক্সকাভেটর মেশিন ও ট্রাকও ব্যবহার করবে। এই 'ইয়েলো লাইন' হলো গাজার উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব দিক দিয়ে চলে যাওয়া একটি সীমারেখা, যেখান থেকে যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে ইসরায়েলি সেনা সরে গেছে।

এই পদক্ষেপ জিম্মিদের পরিবার-পরিজনের জন্য এক বিরাট স্বস্তির খবর, যারা তাদের প্রিয়জনদের সসম্মানে দাফন করার জন্য অনেকদিন ধরেই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় মিশর, কাতার ও তুরস্ক – এই তিন দেশ গাজা শান্তি চুক্তির প্রধান স্বাক্ষরকারী, যা এই মাসের শুরুতেই মিশরের শার্ম আল-শেখে সই হয়।

জিম্মি ফেরতদানের প্রক্রিয়ায় আইসিআরসি ইতিমধ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। কারণ হামাস কখনও জিম্মিদের জীবিত বা মৃত সরাসরি আইডিএফ-এর হাতে তুলে দেয় না; বরং সেগুলো আইসিআরসি-র কাছে হস্তান্তর করে, যারা পরে সেগুলো গাজা থেকে বের করে এনে আইডিএফ-এর কাছে দেয়। তবে গাজার ভেতরে মিশরীয় অনুসন্ধান দলগুলোর সরাসরি প্রবেশ এই প্রথম।

ইসরায়েলের দীর্ঘ দুই বছরের তীব্র বিমান ও স্থল হামলায় গাজার প্রায় ৮৪ শতাংশ এলাকা সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বলে জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে।

হামাসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা জিম্মিদের মৃতদেহ উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু ইসরায়েলি বিমান হামলায় ধসে পড়া ভবনের বিপুল ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে দেহগুলো খুঁজে বের করা খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। বর্তমানে তারা মিশরীয় কর্তৃপক্ষের সাথেই সমন্বয় করে কাজ করছে।

তবে রবিবার এক ইসরায়েলি সরকারি মুখপাত্র পাল্টা দাবি করেন, হামাস আসলে জানে যে মৃতদেহগুলো কোথায় আছে। তারা যদি একটু বেশি আন্তরিক হতো এবং চেষ্টা করতো, তাহলে খুব সহজেই আমাদের জিম্মিদের মরদেহগুলো উদ্ধার করতে পারতো।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলায় হামাস-নেতৃত্বাধীন সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো প্রায় ১,২০০ জন ইসরায়েলিকে হত্যা করে এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে। এর জবাবে গাজায় ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৬৮,৫১৮ জন নিহত হয়েছে বলে গাজার হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যে জানা গেছে।