ঢাকা, মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

বিবিসি এখন 'বিশৃঙ্খল ও নেতৃত্বহীন'! সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তার চাঞ্চল্যকর দাবি


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ১০ নভেম্বর, ২০২৫, ০৫:১১ পিএম

বিবিসি এখন 'বিশৃঙ্খল ও নেতৃত্বহীন'! সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তার চাঞ্চল্যকর দাবি

বিশ্বের অন্যতম স্বনামধন্য সংবাদমাধ্যম বিবিসি এখন 'বিশৃঙ্খল, দিশাহারা ও নেতৃত্বহীন' অবস্থায় আছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক সংবাদ নিয়ন্ত্রক ক্রেইগ অলিভার। বিবিসির মহাপরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদত্যাগের পর রেডিও ফোরের টুডে অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন।

অলিভার বিবিসির দায়িত্ব ছাড়ার পর যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের যোগাযোগ পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর মতে, বিবিসিতে চলমান সংকট সামাল দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, যার ফলে পরিস্থিতি ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

অলিভারের ভাষায়, "এই সংকটময় সময়ে প্রতিষ্ঠান রক্ষার জন্য বিবিসির চেয়ারম্যান সমির শাহকেই এগিয়ে আসতে হবে। কিন্তু তিনি সে কাজটি যথাযথভাবে করছেন না।"

তিনি আরও যোগ করেন, "আমরা এখনো জানি না, যা কিছু ঘটেছে তার বিষয়ে বিবিসির সরকারি বক্তব্য কী।"

কেন পদত্যাগ করলেন শীর্ষ দুই কর্মকর্তা?

বিবিসির মহাপরিচালক টিম ডেভি এবং বার্তাপ্রধান ডেবোরাহ টারনেস গতকাল রোববার রাতে একসাথে পদত্যাগ করেছেন। বিবিসি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ওঠার পরই তারা এই পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

টিম ডেভি তাঁর পদত্যাগপত্রে লিখেছেন, "কিছু ভুল হয়েছে এবং মহাপরিচালক হিসেবে শেষ পর্যন্ত আমাকেই এর দায় নিতে হবে।" অন্যদিকে, বিবিসি নিউজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডেবোরাহ টারনেস বলেছেন, "চূড়ান্তভাবে এই দায়ভার আমার।" তিনি এ-ও উল্লেখ করেন যে পদত্যাগের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া তাঁর জন্য অত্যন্ত কঠিন ছিল।

পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ কী?

বিবিসির এডিটোরিয়াল গাইডলাইন অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস কমিটির ইজিএসসি সাবেক পরামর্শক মাইকেল প্রেসকটই প্রথম বিবিসির সংবাদ পরিবেশনে পক্ষপাতিত্বের এই অভিযোগ তোলেন।

বিবিসির প্যানোরামা অনুষ্ঠানে প্রচারিত একটি তথ্যচিত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ জোড়া দেওয়ার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বিতর্ক তৈরি হয়। বিবিসির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে তারা ট্রাম্পের দুটি আলাদা বক্তব্যকে জোড়া দিয়ে ওই তথ্যচিত্র প্রচার করেছেন, যা বিভ্রান্তি তৈরি করছে। জোড়া দেওয়া বক্তব্যটি শুনে মনে হচ্ছিল যে ট্রাম্প ২০২১ সালে ক্যাপিটল হিলে দাঙ্গার ঘটনায় উসকানি দিচ্ছেন। প্যানোরামায় গত বছরই ওই তথ্যচিত্রটি প্রচারিত হয়েছিল।