ঢাকা, মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

মদিনায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: একই পরিবারের ১৮ ওমরাহযাত্রী নিহত, শোকের ছায়া হায়দরাবাদে


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ১৯ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:১১ পিএম

মদিনায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: একই পরিবারের ১৮ ওমরাহযাত্রী নিহত, শোকের ছায়া হায়দরাবাদে

সৌদি আরবের মদিনার কাছে একটি ডিজেল ট্যাঙ্কারের সঙ্গে ওমরাহযাত্রীবাহী বাসের ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ৪৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ভারতের হায়দরাবাদের একই পরিবারের তিন প্রজন্মের ১৮ জন রয়েছেন—যা পুরো শহরজুড়ে গভীর শোকের জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নিহতদের বেশির ভাগই ভারতীয় নাগরিক, বিশেষ করে তেলেঙ্গানার হায়দরাবাদ অঞ্চল থেকে যাওয়া ওমরাহযাত্রী। মক্কা থেকে মদিনার পথে যাওয়ার সময় রাত প্রায় ১টা ৩০ মিনিটে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনার পর বাসটি আগুন ধরে পুড়ে ছাই হয়ে যায়, ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বেড়ে যায়।

নিহতদের একজন, রেলের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী শাইক নাজিরউদ্দিন তার স্ত্রী, ছেলে, তিন মেয়ে এবং নাতি–নাতনিদের নিয়ে ওমরাহ করতে গিয়েছিলেন। তার ভাতিজা মোহাম্মদ আসলাম জানান,
“এটা সাধারণ দুর্ঘটনা, নাকি অন্য কিছু—আমরা নিশ্চিত নই। তবে নাজিরউদ্দিনসহ পরিবারের ১৮ জন একই বাসে ছিলেন।”
তিনি এ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং যাত্রার আয়োজন করা ট্র্যাভেল এজেন্সির ভূমিকা কঠোরভাবে যাচাই করার দাবি করেন।

দুর্ঘটনার খবর পৌঁছাতেই হায়দরাবাদের রামনগরে নেমে আসে গভীর শোক। নাজিরউদ্দিনের এক আত্মীয় মোহাম্মদ আসিফ এনডিটিভিকে বলেন,
“আমার জা, দেবর, তাদের ছেলে-মেয়ে এবং নাতি–নাতনিরা আট দিন আগে ওমরাহ করতে গিয়েছিলেন। শনিবার দেশে ফেরার কথা ছিল। ফেরার পথে রাত দেড়টার দিকে দুর্ঘটনা ঘটে। বাসটি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।”

তিনি আরও জানান,
“এক পরিবারের নয়জন প্রাপ্তবয়স্ক ও নয়জন শিশু মারা গেছে—এটা কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না।”

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন—৭০ বছরের নাজিরউদ্দিন, তার স্ত্রী আখতার বেগম (৬২), ছেলে সালাউদ্দিন (৪২), মেয়েরা আমিনা (৪৪), রিজওয়ানা (৩৮), শাবানা (৪০) এবং তাদের সন্তানরা।

হতাহতের আনুষ্ঠানিক সংখ্যা এখনো নিশ্চিত নয়

হায়দরাবাদের পুলিশ কমিশনার ভি. সি. সজ্জনার জানান, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে কমপক্ষে ৪৫ জন ভারতীয় ওমরাহযাত্রী নিহত হয়েছেন এবং তাদের বেশির ভাগই হায়দরাবাদ এলাকার বাসিন্দা। তবে সৌদি আরব বা ভারত—কোনো পক্ষই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হতাহতের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করেনি।