এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২৫ নভেম্বর, ২০২৫, ০৩:১১ পিএম
ভারতের সোনার বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এখন এক ভরি ৯ ক্যারেট সোনা পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫৩,৭৮৪ রুপিতে—যেখানে বাংলাদেশে এক ভরি সোনার দাম প্রায় ২ লাখ ১৪ হাজার টাকা। বিষয়টি সম্ভব হয়েছে ভারত সরকারের অনুমোদনের ফলে, যারা এখন সক্রিয়ভাবে ৯ ক্যারেট সোনা ব্যবহারে উৎসাহ দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সোনার লাগামহীন দামের কারণে ২৪ ও ২২ ক্যারেট এখন বিলাসবহুল পণ্যে পরিণত হয়েছে। মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের পক্ষে তা কেনা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই বিকল্প হিসেবে তারা ঝুঁকছে ৯ ক্যারেট সোনার দিকে।
৯ ক্যারেট সোনায় থাকে মাত্র ৩৭.৫% খাঁটি সোনা, বাকিটা তামা, রুপা ও অন্যান্য ধাতু। এই মিশ্রণের ফলে গয়না হয় বেশি টেকশই, সস্তায় পাওয়া যায় এবং ডিজাইনেও বৈচিত্র্য আনা সহজ হয়। ৩% জিএসটি যোগ হলে প্রতি ভরির খুচরা দাম দাঁড়ায় প্রায় ৫,৫০০ রুপি।
অন্যদিকে ২২ ক্যারেট সোনার দাম এখন ১ লাখ ৫০ হাজার রুপির ওপরে। ফলে সাধারণ এবং মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের কাছে ৯ ক্যারেট সোনা হয়ে উঠছে বাস্তবসম্মত বিকল্প। ভারতের ভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ও এখন ৯ ক্যারেট সোনার হলমার্কিংয়ের অনুমোদন দিয়েছে।
জুয়েলবক্স, সেনকো গোল্ড এবং শ্রদ্ধা কাপুরের ব্র্যান্ড পালমোনাস—সবাই এই নতুন প্রবণতা কাজে লাগাচ্ছে।
“দক্ষিণ ভারতের অনেক জায়গায় ১৮ বা ২২ ক্যারেট সোনা জনপ্রিয়। কিন্তু বেঙ্গালুরুর তরুণরা দ্রুত ৯ ক্যারেট সোনার দিকে ঝুঁকছে। এটি স্টাইলিশ, টেকশই এবং রোজকার ব্যবহারের জন্য দারুণ।”
“নয় ক্যারেট সোনায় আধুনিক নকশা তৈরির সুযোগ বেশি। এটি ডিজাইনে নতুনত্ব আনে।”
বিভিন্ন ব্র্যান্ড এখন ল্যাবগ্রোন ডায়মন্ডের সঙ্গে ৯ ক্যারেট সোনা মিলিয়ে মাত্র ১০–২০ হাজার রুপিতেই ট্রেন্ডি গয়না তৈরি করছে। এতে জেনজিস ও মিলেনিয়ালরা কম দামে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব গয়না কিনতে পারছে।
ভারত ও চীন বিপুল পরিমাণ সোনা মজুদ করায় আন্তর্জাতিক বাজারেও কম ক্যারেট সোনার চাহিদা বাড়ছে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে খাঁটি সোনা এখনও জনপ্রিয়, তবে সাধারণ ব্যবহারে ৯ ও ১৪ ক্যারেট দিন দিন গ্রহণযোগ্য বিকল্প হয়ে উঠছে।
“তরুণ প্রজন্মের কাছে সোনার মান নির্ভর করছে শুধু বিশুদ্ধতার উপর নয়—বরং ডিজাইন, ব্যবহারযোগ্যতা ও দামের ভারসাম্যের উপর।”
যেখানে একসময় প্রচলিত ছিল—‘যত খাঁটি, তত ভালো’, এখন সেখানে নতুন ধারণা দখল নিচ্ছে—‘যত ব্যবহারযোগ্য, তত জনপ্রিয়’।
ভারতের ঐতিহ্যবাহী গয়নার সংস্কৃতিতে এই নতুন পরিবর্তন যোগ করেছে এক বাস্তবমুখী এবং ব্যবহার-কেন্দ্রিক অধ্যায়।