ঢাকা, মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

ইসরাইলের বিরুদ্ধে বেদনাদায়ক প্রতিশোধ আসছে: হিজবুল্লাহ কমান্ডার হত্যায় বিস্ফোরক সতর্কবার্তা আরব বিশ্লেষকের


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ২৫ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:১১ পিএম

ইসরাইলের বিরুদ্ধে বেদনাদায়ক প্রতিশোধ আসছে: হিজবুল্লাহ কমান্ডার হত্যায় বিস্ফোরক সতর্কবার্তা আরব বিশ্লেষকের

হিজবুল্লাহর প্রভাবশালী কমান্ডার নিহত হওয়ার পর ইসরাইলকে কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে—এমনই তীব্র সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিশিষ্ট আরব রাজনৈতিক বিশ্লেষক আব্দুল বারি আতওয়ান। তিনি বলেন, হিজবুল্লাহর পাল্টা প্রতিক্রিয়া এখন অবশ্যম্ভাবী, আর সেটি হবে ইসরাইলের জন্য “বেদনাদায়ক ও ভয়াবহ”।

মঙ্গলবার রায় আল-ইয়োমে প্রকাশিত কলামে আতওয়ান লিখেছেন—হিজবুল্লাহর জ্যেষ্ঠ কমান্ডার হাইথাম আলী তাবাতাবায়িকে টার্গেট করা হবে, এটি আগে থেকেই অনুমেয় ছিল। কারণ ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান দীর্ঘদিন ধরে বৈরুতসহ লেবাননের আকাশে টহল দিয়ে আসছে। তার দাবি, এই হামলার পেছনে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নির্দেশ এবং মার্কিন প্রশাসনের সমন্বয় থাকার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

“ইসরাইল আতঙ্কে আছে”—আতওয়ানের বিশ্লেষণ

আতওয়ানের মতে, এই প্ররোচনামূলক হামলা স্পষ্ট করে যে ইসরাইল ভয় পাচ্ছে—বিশেষ করে হিজবুল্লাহর তরুণ কমান্ডারদের উত্থান নিয়ে। সম্ভাব্য বৃহৎ যুদ্ধে এরা নেতৃত্ব দিতে পারে—এই সম্ভাবনাই তেলআবিবকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

তিনি বলেন,
“হিজবুল্লাহর সামরিক নেতৃত্ব অত্যন্ত নীরবে ও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে কাজ করে। তারা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেবে, প্রতিশোধ কখন ও কোথায় দেওয়া হবে।”

নেতানিয়াহুর কৌশল: হিজবুল্লাহকে উস্কে দেওয়ার চেষ্টা

আতওয়ান মনে করেন, ইসরাইল চায় হিজবুল্লাহ যেন তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখায়। তাহলে লেবাননে স্থল, আকাশ ও সমুদ্র—তিন দিক থেকেই বড় ধরনের নতুন আক্রমণের অজুহাত তৈরি করা সহজ হবে।

কিন্তু হিজবুল্লাহ সেই ফাঁদে পা দেবে না, বরং সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়ার পরই তারা সাড়া দেবে বলে তিনি বিশ্লেষণ করেন।

৭ হাজারের বেশি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন—অস্ত্র ছাড়বে না হিজবুল্লাহ

আতওয়ান স্মরণ করিয়ে দেন, গত এক বছরে ইসরাইল ৭ হাজারেরও বেশি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। তাবাতাবায়ির হত্যাকাণ্ডসহ এসব ঘটনা প্রমাণ করে—অস্ত্র হাতে রাখার সিদ্ধান্তে হিজবুল্লাহ বাস্তবসম্মত ও যুক্তিযুক্ত অবস্থানে আছে। তারা বহুবারই বলেছে, কোনো চাপেই তারা অস্ত্র সমর্পণ করবে না।

তিনি প্রশ্ন তোলেন,
“যদি হিজবুল্লাহ সত্যিই দুর্বল হয়ে যায়, তাহলে ইসরাইলের হামলার মাত্রা কেন দিন দিন বাড়ছে?”

ইসরাইলের ব্যর্থতা ও হিজবুল্লাহর শক্তি বৃদ্ধি

তার বিশ্লেষণে উঠে আসে, ইসরাইলের টার্গেট কিলিং ও একের পর এক আক্রমণ আসলে তাদেরই ব্যর্থতা তুলে ধরছে। গত বছরের নভেম্বরে লেবাননে ইসরাইলের অভিযান সফল হয়নি বলেই হিজবুল্লাহ আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।

আতওয়ান বলেন, ইসরাইল হিজবুল্লাহর মহাসচিব এবং শীর্ষ কমান্ডারদের হত্যার চেষ্টা করেছে; এমনকি পেজারের বিস্ফোরণে প্রায় ৪ হাজার মানুষ হতাহত হয়েছে। তবুও হিজবুল্লাহর প্রতিরোধ ভাঙতে পারেনি ইসরাইল।