ঢাকা, মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

ইসরায়েলকে বঞ্চিত রেখে কেন সৌদির পেছনে দৌড়াচ্ছেন ট্রাম্প? পর্দার আড়ালের বড় খেলাটা কী


এনবিএস ডিজিটাল ডেস্ক    | প্রকাশিত:  ২৬ নভেম্বর, ২০২৫, ০৯:১১ এএম

ইসরায়েলকে বঞ্চিত রেখে কেন সৌদির পেছনে দৌড়াচ্ছেন ট্রাম্প? পর্দার আড়ালের বড় খেলাটা কী

সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে অভূতপূর্ব জাঁকজমক দিয়ে স্বাগত জানালেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর প্রশাসনে এত ধুমধাম করে এখনো পর্যন্ত আর কোনো বিদেশি নেতাকে অভ্যর্থনা জানানো হয়নি। এই সফরই ইঙ্গিত দিচ্ছে—ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতিতে সৌদি আরব এখন শীর্ষ অগ্রাধিকারের তালিকায়।

যদিও সফরটিকে ‘সাধারণ অফিসিয়াল ভিজিট’ বলা হয়েছে, কিন্তু আয়োজন দেখে মনে হয়েছে যেন হোয়াইট হাউস সৌদি যুবরাজের জন্য লাল গালিচার সবটুকুই খুলে রেখেছে। দক্ষিণ লনে ঘোড়ায় টানা আনুষ্ঠানিক শোভাযাত্রা, পতাকা হাতে ইউনিফর্মধারী সৈন্য, আকাশে যুদ্ধবিমানের উড়াউড়ি—সব মিলিয়ে দৃশ্যটা ছিল একেবারে রাজকীয়।

নতুনভাবে সাজানো সোনালি ওভাল অফিসে প্রবেশের পর ট্রাম্পের আচরণে স্পষ্ট ছিল মুগ্ধতা। যুবরাজের হাত ধরে তিনি বারবার বলেন—এই ‘রাজকীয় বন্ধুত্ব’ তাঁর জন্য বিরাট সম্মানের।

সবকিছুই চলছিল চকচকে আয়োজনের মধ্যে, কিন্তু ২০১৮ সালে সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যা ইস্যুতে প্রশ্ন উঠতেই পরিস্থিতি পাল্টে যায়। এক সাংবাদিক এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুললে ট্রাম্প রেগে যান এবং ওই সাংবাদিকের প্রতিষ্ঠানের তীব্র সমালোচনা করেন।

উল্লেখ্য, খাসোগিকে ইস্তাম্বুলে সৌদি কনসুলেটে হত্যা ও মরদেহ টুকরো করার পর সাত বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র সফর থেকে দূরে ছিলেন যুবরাজ সালমান।

ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, খাসোগি ছিলেন “চরম বিতর্কিত” ব্যক্তি—যা শুনে মনে হচ্ছিল হত্যাকাণ্ডটিকে তিনি নরমভাবে দেখাতে চাইছেন। তিনি আরও দাবি করেন, ওই হত্যা সম্পর্কে যুবরাজ কিছুই জানতেন না। কিন্তু মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট বলছে সম্পূর্ণ বিপরীত কথা।

সফরের সবচেয়ে বড় ঘোষণাগুলোর একটি ছিল—সৌদি আরবের কাছে এফ-৩৫ জঙ্গিবিমান বিক্রি। কোনো শর্ত ছাড়াই এসব আধুনিক যুদ্ধবিমান দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। এমনকি সৌদির জন্য বরাদ্দ মডেল ইসরায়েলের কাছে থাকা এফ-৩৫–এর স্পেসিফিকেশনের সঙ্গেই পুরোপুরি মিলবে।

এটি উল্লেখযোগ্য কারণ—মার্কিন নীতিতে সাধারণত ইসরায়েলের সামরিক আধিপত্য বজায় রাখতে অন্য কোনো মধ্যপ্রাচ্যের দেশকে একই মানের যুদ্ধবিমান দেয়া হয় না।

এফ-৩৫–এর মতোই গুরুত্বপূর্ণ আরেক সিদ্ধান্ত হলো—সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে উন্নতমানের এআই চিপ বিক্রির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা বাতিল করা। অর্থাৎ সামরিক ও প্রযুক্তিগত দুই ক্ষেত্রেই সৌদির প্রতি বড়সড় ছাড় দিচ্ছে ওয়াশিংটন।