এনবিএস ডিজিটাল ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৬ নভেম্বর, ২০২৫, ০৯:১১ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মুসলিম ব্রাদারহুডের নির্দিষ্ট শাখাগুলোকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ এবং ‘বিশেষভাবে বৈশ্বিক সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। আরব বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও প্রভাবশালী এই ইসলামি আন্দোলনের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে—এমনই ধারণা দিচ্ছে এই সিদ্ধান্ত।
রয়টার্স জানায়, হোয়াইট হাউসের ফ্যাক্ট শিট অনুযায়ী ট্রাম্প সোমবার ২৪ নভেম্বর একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। এতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং অর্থমন্ত্রী স্কট বেস্যান্টকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—মিশর, লেবানন ও জর্ডানে মুসলিম ব্রাদারহুডের যেসব শাখা আছে, তাদের মধ্যে কোনোটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করা উচিত কি না, সে বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিতে।
আদেশ অনুযায়ী, মন্ত্রীদের এই প্রতিবেদন দাখিলের ৪৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন বা বৈশ্বিক সন্ত্রাসী সংগঠনের মর্যাদা দিতে হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ—এই দেশগুলোতে মুসলিম ব্রাদারহুডের শাখাগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সহযোগীদের বিরুদ্ধে সহিংস হামলায় সমর্থন বা উৎসাহ দিয়ে থাকে। এছাড়া, গোষ্ঠীটি ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাসকে বিভিন্ন উপায়ে সমর্থন দেয় বলেও দাবি করা হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের ফ্যাক্ট শিটে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মুসলিম ব্রাদারহুডের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক নিয়ে উদ্বিগ্ন। এই নেটওয়ার্ক মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ও মিত্রদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ এবং অস্থিতিশীলতা ছড়ানোর প্রচারণাকে উসকে দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান রাজনীতিক এবং ডানপন্থি গোষ্ঠীগুলো বহুদিন ধরেই মুসলিম ব্রাদারহুডকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণার দাবি জানাচ্ছে। ট্রাম্পও তাঁর প্রথম মেয়াদে একই উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর কয়েক মাসের মধ্যেই রুবিও ঘোষণা করেন—ট্রাম্প প্রশাসন মুসলিম ব্রাদারহুডকে সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত করতে কাজ করছে।
সম্প্রতি টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবোটও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে মুসলিম ব্রাদারহুডকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
১৯২০-এর দশকে মিশরে সেক্যুলার ও জাতীয়তাবাদী মতাদর্শের বিরোধিতায় মুসলিম ব্রাদারহুডের জন্ম। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এটি দ্রুতগতিতে মুসলিম বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে এবং এক সময় প্রভাবশালী রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠনে পরিণত হয়। তবে সংগঠনটির কাজের বড় অংশই চলে গোপন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে।