ঢাকা, মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

ইসরায়েলের ভয়! প্রভাবশালী কমান্ডার হত্যার জবাবে হিজবুল্লাহর চারটি সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা


এনবিএস ডিজিটাল ডেস্ক    | প্রকাশিত:  ২৬ নভেম্বর, ২০২৫, ০৯:১১ এএম

ইসরায়েলের ভয়! প্রভাবশালী কমান্ডার হত্যার জবাবে হিজবুল্লাহর চারটি সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা

ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর প্রভাবশালী কমান্ডার হাইথাম আলী তাবাতাবায়ির হত্যাকাণ্ড লেবানন–ইসরায়েল সংঘাতকে এক নতুন পর্যায়ে ঠেলে দিয়েছে। ইসরায়েল আশঙ্কা করছে, এই হত্যার প্রতিশোধে হিজবুল্লাহ বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে। আর তাই তেলআবিবসহ পুরো দেশজুড়ে জারি করা হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা।

ইসরায়েলি সেনা রেডিওর সামরিক প্রতিবেদক দোরোন কাদোশ জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহ চারটি সম্ভাব্য পথে এই হত্যাকাণ্ডের জবাব দিতে পারে—

১. ইসরায়েলের গভীরভাগে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
এই আশঙ্কায় ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। কোনো সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সচল রাখা হয়েছে।

২. সীমান্ত ভেদ করে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে অভিযান
হিজবুল্লাহ গোপনে ইসরায়েলে প্রবেশ করে সামরিক ঘাঁটিতে হামলা বা বিশেষ অভিযান চালাতে পারে—এমন সতর্কতাও দিয়েছে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

৩. ইয়েমেনের আনসারুল্লাহকে হামলায় উদ্বুদ্ধ করা
হিজবুল্লাহ নিজে হামলা না চালিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র সংগঠন আনসারুল্লাহকে ব্যবহার করতে পারে—এমন ধারণাও রয়েছে ইসরায়েলি বিশ্লেষকদের।

৪. সরাসরি প্রতিশোধ না নিয়ে সামরিক শক্তি পুনর্গঠনে মনোযোগ
তাৎক্ষণিক জবাব না দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে শক্তি পুনর্গঠন করে পরবর্তী সময়ে বড় আঘাত হানার কৌশলও নিতে পারে তারা।

দোরোন কাদোশ আরও বলেন, ইসরায়েলি বাহিনীও সুযোগ পেলে হিজবুল্লাহকে আরও দুর্বল করতে প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি লেবাননে তাদের হামলা অব্যাহত রাখা হবে যেন হিজবুল্লাহ পুনরায় শক্তি সঞ্চয় করতে না পারে।
এরপরও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হিজবুল্লাহ তাদের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে পুনর্গঠন করেছে।

ইসরায়েলের জনপ্রিয় দৈনিক ইয়েদিয়োত আহরোনোত-এর সামরিক বিশ্লেষক ইউআভ জেইতুন লিখেছেন, গত বছর ইসরায়েল লেবাননে বিমান হামলার পাশাপাশি ২১টি গ্রামজুড়ে মোট ১,২০০টি স্থল অভিযান পরিচালনা করেছে। প্রকাশ্য টহল, গোপন অভিযান, ঘাঁটিতে হামলা, অবকাঠামো ধ্বংস—সব মিলিয়ে তারা প্রতিদিন লেবাননের ভেতরে তিন থেকে পাঁচ কিলোমিটার পর্যন্ত ঢুকে তিন থেকে পাঁচটি হামলা চালিয়েছে।

তবু এসব আক্রমণেও হিজবুল্লাহকে দুর্বল করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। বরং এখনো তাদের হাতে রয়েছে পর্যাপ্ত অস্ত্র এবং হামলার সক্ষমতা।

ইউআভ জেইতুন আরও সতর্ক করে বলেন, হিজবুল্লাহ হাইফা ও তেলআবিবে নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে এবং গ্যালিলি এলাকায় কিংবা ইসরায়েলের কৌশলগত স্থাপনাগুলোতে বিস্ফোরক ড্রোন পাঠানোর ক্ষমতাও তাদের রয়েছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “কমান্ডার হারালেও হিজবুল্লাহ এখনো ভয়ংকরভাবে শক্তিশালী।