এনবিএস ডিজিটাল ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৬ নভেম্বর, ২০২৫, ০৯:১১ এএম
সোমবার একটি ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জানায়, ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় “লেবাননের মডেল” বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছে। পার্সটুডের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি সংবাদপত্র ইয়েদিওথ আহারনোত তাদের প্রতিবেদনে বলেছে—যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা রয়েছে। কিন্তু ইসরায়েল মনে করছে, এ ধরনের বাহিনী মোতায়েন হলে হামাসের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাতে তাদের স্বাধীনতা কমে যাবে। তাই তারা গাজায় লেবাননের মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে, যেখানে নিজেদের মনমতো অভিযান চালানোর সুযোগ থাকবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের আগেই ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজায় স্থলভাগে নিজেদের প্রভাব আরও শক্ত করতে চাইছে, যাতে ভবিষ্যতেও তারা স্বাধীনভাবে সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।
ইয়েদিওথ আরও লিখেছে, যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় পর্যায় বাস্তবায়নে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বেড়েছে। তবে ইসরায়েল এবার পাল্টা যুক্তি দিচ্ছে—হামাস নাকি এখনও তিনজন যুদ্ধবন্দীর মরদেহ ফেরত দেয়নি।
এ পর্যন্ত হামাস ২০ জন জীবিত ইসরায়েলি বন্দী ফিরিয়ে দিয়েছে এবং ২৭ জন জিম্মির মৃতদেহ হস্তান্তর করেছে।
দ্বিতীয় ধাপে গাজার অবস্থা কিছুটা স্বাভাবিক করতে যেসব পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে সেগুলোর মধ্যে আছে— রাফা ক্রসিং পুনরায় খোলা, আরও বেশি মানবিক সহায়তা প্রবেশ, গাজার ভিতরে চলাচলে শিথিলতা, এবং এলাকা পরিচালনার জন্য একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গঠন।
ইয়েদিওথের বিশ্লেষণ মতে, ইসরায়েল গাজার ফিলিস্তিনিদের পুনর্গঠন এবং স্বনির্ভর হতে না দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে।
২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পরও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ধারাবাহিকভাবে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। তাদের হামলায় ইতোমধ্যেই শত শত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ আহত।
এদিকে ইসরায়েল গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে অভিযুক্ত, আর যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক যুদ্ধমন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট—দুজনের বিরুদ্ধেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।