এনবিএস ডিজিটাল ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৬ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:১১ এএম
গাজায় যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখতে এবার মিশরের সাহায্য চেয়েছে হামাস। গত ৬ সপ্তাহে ইসরাইলি সেনারা প্রায় ৫০০ বার যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করেছে বলে অভিযোগ তুলে কায়রোতে মিশরের গোয়েন্দা প্রধানের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছে সংগঠনটির শীর্ষ নেতাদের একটি প্রতিনিধিদল। তাদের সতর্কতা—তেল আবিব সংযত না হলে যুদ্ধবিরতি যে কোনো সময় ভেঙে যেতে পারে।
ইসরাইল দাবি করছে, আইডিএফ সেনাদের ওপর গুলি চালানোর পর তারা ‘পাল্টা হামলা’ চালিয়েছে। কিন্তু পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় বিশ্লেষকরা বলছেন—এই অস্থিরতার মধ্যে গাজার যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ কার্যকর করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
এদিকে গাজায় আবারও শোকের ছায়া। একসঙ্গে জড়ো করে রাখা হয়েছে ২০টি মরদেহ। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে বাতাস। যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার ৪৪ দিন পর আবারও যেন রক্তমাখা গাজায় ফিরেছে পুরোনো দৃশ্য।
শনিবার, ২২ নভেম্বর—দেইর আল বালাহ শহরের রাস্তায় ইসরাইলি বিমান হামলায় নিহত ২০ ফিলিস্তিনির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ইসরাইল এটিকে ‘পাল্টা জবাব’ বললেও নিহতদের পরিবার বলছে, তাদের প্রিয়জনদের বিনা কারণেই হত্যা করা হয়েছে।
এক নিহত ব্যক্তির ভাই কান্না চেপে বললেন, “যুদ্ধ বন্ধ হওয়ায় আমরা ভাবছিলাম নিরাপদ। এ বেল্টটা আমার ভাইয়ের—সে শহীদ হয়েছে। তারা বলেছিল যুদ্ধবিরতি চলছে। অথচ ঠিক গতকালই আমাদের ওপর হামলা হলো।
আরেকজনের প্রশ্ন, “নিরপরাধ মানুষগুলো শান্তিতে ছিল। তাদের ওপর হামলা হলো কেন?
আইডিএফের দাবি ভিন্ন। তারা বলছে, দক্ষিণ গাজায় ত্রাণ প্রবেশের রুটে অনুপ্রবেশ করে এক ফিলিস্তিনি বন্দুকধারী ইসরাইলি সেনাদের ওপর হামলা চালায়। তার জেরেই পরিকল্পিতভাবে ‘নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে’ বিমান হামলা করা হয়েছে।
শনিবারের এই হামলার পর কায়রোতে মিশরের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান হাসান রাসাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে হামাসের প্রতিনিধিদল। রোববার ২৩ নভেম্বর এক বিবৃতিতে তারা আবারও জানায়—ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপ তারা পুরোপুরি বাস্তবায়নে রাজি। কিন্তু ইসরাইল শুরু থেকেই অস্ত্রবিরতির শর্ত মানছে না।
গত মাসে যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করেছিল মিশর, কাতার ও যুক্তরাষ্ট্র। নতুন হামলার পরেই হামাস তাদের তিন দেশের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। পাশাপাশি রাফাহর ইসরাইল-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সুরঙ্গপথে আটকে থাকা যোদ্ধাদের বিষয়েও সমাধান চেয়েছে সংগঠনটি।
এ অবস্থায় যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ কার্যকরে শঙ্কা বাড়ছে বলে আল জাজিরাকে জানিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষকরা। ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দ্বিতীয় ধাপে গাজার শাসনভার যাবে একটি ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট কমিটির কাছে, যাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বাধীন ‘বোর্ড অব পিস’ নামে একটি কমিটি।
এই কমিটির অধীনে গাজায় মোতায়েন করা হতে পারে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী বা স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স। তাদের দায়িত্ব হবে সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষা ও ফিলিস্তিনি পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেওয়া। আন্তর্জাতিক বাহিনী নামলে গাজা থেকে সরে যেতে হবে ইসরাইলি সেনা—আর হামাসকে জমা দিতে হবে অস্ত্র।