ঢাকা, মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

গাজা কাভারেজে ইসরাইলপন্থা? ট্রাম্প বিতর্কের আড়ালে বিবিসির ‘বড় পাপ’ ফাঁস


এনবিএস ডিজিটাল ডেস্ক    | প্রকাশিত:  ২৬ নভেম্বর, ২০২৫, ১০:১১ এএম

গাজা কাভারেজে ইসরাইলপন্থা? ট্রাম্প বিতর্কের আড়ালে বিবিসির ‘বড় পাপ’ ফাঁস

বিবিসির ডিরেক্টর জেনারেল আর নিউজ প্রধান পদত্যাগ করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক বক্তৃতা বিভ্রান্তিকরভাবে এডিট করে প্রচার করার ঘটনা ঘিরে যে তোলপাড় তৈরি হয়েছিল, তার চাপেই তারা সরে দাঁড়িয়েছেন। ঘটনাটা খুব সরল—একটি ভুল, তার প্রতিক্রিয়া, এবং শেষ পর্যন্ত দায় নেওয়া। কিন্তু এই কেলেঙ্কারির আগুন ছড়িয়ে পড়ার পেছনে যে বিতর্ক কাজ করেছে, সেটা ছিল পুরোপুরি ভুল জায়গায়।

মুখ্য আলোচনায় এখনো সেই এডিটিংয়ের ভুলকেই বড় করে দেখানো হচ্ছে। কিন্তু ব্রিটেনের জাতীয় গণমাধ্যমের ভেতরে যে সত্যিকারের সংকট জমে উঠেছে, সেটা আরও গভীর, আরও অস্বস্তিকর। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ গাজার যুদ্ধ—যেখানে ইসরাইলকে কেন্দ্র করে খবর পরিবেশনে বিবিসির সততা ও সাহসিকতার অভাব একেবারে চোখে পড়ার মতো।

বিদ্রূপ হলো—বিবিসি সবচেয়ে ছোট ভুলের জন্য কেঁপে উঠেছে, অথচ তাদের সবচেয়ে বড় ভুল—ফিলিস্তিনিদের বাস্তবতা বিকৃত করে দেখানো—সেটার কোনো শাস্তিই হয়নি।

এই ব্যর্থতা কিন্তু পরিমাপ করা যায়। সেন্টার ফর মিডিয়া মনিটরিং এমন একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, যা সত্যিই চমকে দেওয়ার মতো। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের মে পর্যন্ত বিবিসির ৩৫ হাজারের বেশি সংবাদ বিশ্লেষণ করে তারা দেখেছে—গাজা ইস্যুর খবরগুলোতে বিবিসি প্রায় সবসময়ই ইসরাইলের দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রাধান্য দিয়েছে, আর ফিলিস্তিনিদের কণ্ঠস্বর ছিল একেবারে উপেক্ষিত।

সংখ্যাগুলো ভয় ধরিয়ে দেওয়ার মতো। গবেষণার সময় ফিলিস্তিনিদের মৃত্যু ৪২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। কিন্তু ইসরাইলিদের নিয়ে প্রকাশিত প্রতিটি ঘটনার তুলনায় ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুর খবর মনোযোগ পেয়েছে ৩৩ গুণ কম। ইসরাইলি নিহতদের ক্ষেত্রে ‘হত্যা করা হয়েছে’ শব্দটি ব্যবহার হয়েছে ২২০ বার, ফিলিস্তিনি নিহতদের ক্ষেত্রে মাত্র একবার। একইভাবে ‘হত্যাযজ্ঞ’ শব্দটির ক্ষেত্রে ফিলিস্তিনিদের তুলনায় ইসরাইলিদের নিয়ে এই শব্দ ব্যবহার হয়েছে ১৮ গুণ বেশি।

রিপোর্টিংয়ে ইসরাইলি কর্মকর্তা ও ভাষ্যকারদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে ফিলিস্তিনি সূত্রের তুলনায় ১৮ গুণ বেশি।

এমনকি মানবিক দুর্ভোগের খবরেও ফিলিস্তিনিদের প্রায়ই পরোক্ষ ভিকটিম হিসেবে দেখানো হয়েছে—বাস্তুহারা, ক্ষুধার্ত, মৃতপ্রায়—এ রকম শব্দে সাজানো হয়েছে রিপোর্ট। তাদের মানুষ হিসেবে অধিকার, ইতিহাস বা সংগ্রামের কথা খুব কমই এসেছে।

মাত্র ০.৫% প্রতিবেদনে ইসরাইলের বহু দশকের দখলদারিত্বের উল্লেখ আছে। আর মাত্র ২% রিপোর্টে এসেছে ইসরাইলের বর্ণবাদী আচরণের কথা—যদিও বিশ্বের বড় বড় মানবাধিকার সংস্থাগুলো এসব শব্দ স্পষ্টভাবেই ব্যবহার করেছে।