ঢাকা, মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬ | ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

ইমরান খানকে সরানো বা মৃত্যুর গুজব মিথ্যা, আদিয়ালা জেল জানাল চমকে যাওয়ার তথ্য


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ২৭ নভেম্বর, ২০২৫, ০৩:১১ পিএম

ইমরান খানকে সরানো বা মৃত্যুর গুজব মিথ্যা, আদিয়ালা জেল জানাল চমকে যাওয়ার তথ্য

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে কারাগার থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে—এমন গুজব ছড়িয়ে পড়তেই সরব হয়ে ওঠে আদিয়ালা জেল কর্তৃপক্ষ। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এসব খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ইমরান এখনও কারাগারেই আছেন, তাও আবার সুস্থ অবস্থায়।

পাকিস্তানের জিও নিউজকে উদ্ধৃত করে গালফ নিউজ জানায়, ইমরান খানকে অন্য কোথাও নিয়ে যাওয়া হয়েছে—এমন দাবি ভুল প্রমাণিত হয়েছে। আদিয়ালা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, তিনি জেলে আছেন, নিয়মিত চিকিৎসা পাচ্ছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা ভালো।

“আদিয়ালা জেল থেকে তাকে সরানোর খবর পুরোপুরি মিথ্যা। তিনি সুস্থ আছেন এবং সব ধরনের চিকিৎসা সুবিধা পাচ্ছেন।”
কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, তার স্বাস্থ্য নিয়ে যেসব জল্পনা চলছে, সেগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ইমরান খান কারাগারে। ২০২২ সালের এপ্রিলে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতা হারানোর পর তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি থেকে শুরু করে সন্ত্রাসবাদ পর্যন্ত একাধিক মামলা চলছে।

এদিকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ দাবি করেছেন, ইমরান খান জেলে বেশ আরামেই আছেন। তিনি বলেন,
“তার জন্য যে খাবার আসে, পাঁচতারা হোটেলেও এমন খাবার পাওয়া যায় না। তার কাছে টিভি আছে, ইচ্ছেমতো চ্যানেল দেখেন। ব্যায়াম করার মেশিনও আছে।”

নিজের দুর্ভোগের দিনগুলোর কথা তুলে ধরে আসিফ জানান, তিনি নিজে ঠান্ডা মেঝেতে ঘুমিয়েছেন, পেয়েছেন কারাগারের সাধারণ খাবার, শীতের মধ্যে ছিল মাত্র দুটি কম্বল। এমনকি তার সেল থেকে গিজারও খুলে নেওয়া হয়েছিল।

তিনি আরও দাবি করেন, ইমরান খানের জন্য ডাবল বেড এবং “মখমলের গদি” পর্যন্ত রাখা হয়েছে। খোঁচা দিয়ে বলেন,
“তার উচিত জেলের লাউডস্পিকারে ওয়াশিংটন অ্যারেনার বক্তৃতা শোনা। খোদাকে ভয় করো—সময় কারও হাতে থাকে না।”

অন্যদিকে ক্ষমতাসীন জোটের প্রধান দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ–নওয়াজের (পিএমএল-এন) সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। বুধবার তিনি বলেন,
“ইমরান একমাত্র অপরাধী ছিলেন না, যারা তাকে ক্ষমতায় এনেছিল, তারা আরও বড় অপরাধী। তাদের সম্পূর্ণ জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।”

২০২৪ সালের নির্বাচনের পর পিপিপির সঙ্গে জোট করে ক্ষমতায় আসার পর নওয়াজ শরিফ খুব শান্তই ছিলেন, তবে সর্বশেষ বক্তব্যে তিনি আবারো ইমরান ইস্যুতে সরব হয়ে উঠেছেন।

পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের নির্বাচনে পিটিআই ২৭০টি আসনের মধ্যে ১১৫টি পেয়ে দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়।