ঢাকা, মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

ইসরায়েলের নির্যাতনে ‘স্তম্ভিত’ জাতিসংঘ, ফিলিস্তিনিদের উপর চলছে ‘রাষ্ট্রীয় নীতি’—ভিডিও ফুটেজ দেখে শিউরে উঠবেন!


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ২৯ নভেম্বর, ২০২৫, ০৫:১১ পিএম

ইসরায়েলের নির্যাতনে ‘স্তম্ভিত’ জাতিসংঘ, ফিলিস্তিনিদের উপর চলছে ‘রাষ্ট্রীয় নীতি’—ভিডিও ফুটেজ দেখে শিউরে উঠবেন!

ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের বর্বর নির্যাতন এখন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি কার্যত একটি রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে চলছে। জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী কমিটি তাদের সর্বশেষ বিস্ফোরক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছে। এই রিপোর্ট হাতে আসার পর আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

কমিটির প্রকাশিত নথিতে আটক ফিলিস্তিনিদের উপর যে ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে, তা যেকোনো বিবেকবান মানুষের জন্য শিউরে ওঠার মতো। তাদের প্রতিবেদনে মারধর, খাবার ও পানীয় থেকে বঞ্চিত করা, ইলেকট্রিক শক, এমনকি যৌন নির্যাতন-এর মতো জঘন্য কাজের তথ্য রয়েছে।

গ্রেপ্তার ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন: কমিটি জানিয়েছে, গত বছর ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরায়েল হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করে। তাদের মধ্যে অনেককেই মাসের পর মাস ধরে পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হয়নি, এমনকি আইনি পরামর্শের জন্য আইনজীবীর সঙ্গেও যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি।

আইনের অপব্যবহার: শিশু, নারী ও বৃদ্ধসহ অসংখ্য ফিলিস্তিনিকে দীর্ঘ সময় ধরে বন্দি রাখতে ইসরায়েল প্রশাসনিক আটক আইন এবং ‘আনলফুল কম্ব্যাট্যান্টস’ আইনের চরম অপব্যবহার করছে বলে জাতিসংঘ তীব্র সমালোচনা করেছে।

কারাগারে অমানবিকতা: প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জেলখানাগুলোতে বন্দিদের নিয়মিত খাবার দেওয়া হয় না, বেপরোয়াভাবে মারধর করা হয়, তাদের উপর কুকুর লেলিয়ে দেওয়া হয়, সারাক্ষণ শেকল পরিয়ে রাখা হয় এবং টয়লেট ব্যবহারের অনুমতিও দেওয়া হয় না।

জাতিসংঘের কমিটি স্পষ্ট জানিয়েছে, এই নিষ্ঠুর আচরণগুলো যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। কমিটির সদস্যরা বলেছেন, অভিযোগগুলোর ভয়াবহতা দেখে তারা আক্ষরিক অর্থেই “স্তম্ভিত” হয়ে গেছেন। তারা ইসরায়েলকে একটি স্বাধীন তদন্ত শুরু করতে এবং এই অমানবিক কাজের জন্য দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।

তবে বরাবরের মতোই ইসরায়েল এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, জাতিসংঘ পক্ষপাতদুষ্ট এবং এই রিপোর্টে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভুল ও ভিত্তিহীন।

এই রিপোর্ট এমন এক সময়ে প্রকাশ পেল যখন মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ইসরায়েলের উপর আন্তর্জাতিক চাপ ক্রমশ বাড়ছে। সম্প্রতি জাতিসংঘ আরও জানিয়েছে যে, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে দুই ফিলিস্তিনির নিহত হওয়ার ঘটনাকে “বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড” মনে হচ্ছে।

এদিকে, গাজায় যুদ্ধবিরতি থাকলেও সেখানকার মানুষের দুর্দশা কমেনি। ত্রাণ সংস্থাগুলো বলছে, শীত ও বৃষ্টি মাথায় নিয়ে তাঁবুতে দিন কাটাচ্ছে তারা, পর্যাপ্ত ত্রাণ পাচ্ছেন না এবং মাঝেমধ্যেই ইসরায়েলি হামলার আতঙ্কে জীবনযাপন করতে হচ্ছে।