ঢাকা, সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২৬ | ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

এয়ারবাসে বড় সফটওয়্যার বিপর্যয়ের শঙ্কা! বিশ্বের হাজারো ফ্লাইট বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ২৯ নভেম্বর, ২০২৫, ০৬:১১ পিএম

এয়ারবাসে বড় সফটওয়্যার বিপর্যয়ের শঙ্কা! বিশ্বের হাজারো ফ্লাইট বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা

সফটওয়্যারের সম্ভাব্য ত্রুটির কারণে বিশ্বব্যাপী হাজারো ফ্লাইটে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে জানিয়েছে ইউরোপের শীর্ষ উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস। তীব্র সৌর বিকিরণের কারণে উড়োজাহাজ নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই এই সতর্কতা জারি করেছে প্রতিষ্ঠানটি, জানিয়েছে বিবিসি।

এয়ারবাসের বহরের প্রায় অর্ধেক—প্রায় ছয় হাজার এ৩২০ সিরিজের উড়োজাহাজ—এই সমস্যার সম্ভাব্য ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে দ্রুত সফটওয়্যার আপডেট দিলে বেশির ভাগ ফ্লাইট স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারে।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, শুধু এ৩২০ নয়—এ৩১৮, এ৩১৯ এবং এ৩২১ মডেলেও একই সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, আকস্মিক সংকটের কারণে কিছু বিঘ্ন বা ফ্লাইট বাতিল হতে পারে। তবে বিমানবন্দরগুলোর সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল।

প্রায় ৫,১০০ উড়োজাহাজে তিন ঘণ্টার মতো সময় নিয়ে সফটওয়্যার আপডেট করলেই সমস্যা সমাধান সম্ভব বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আরও ৯০০ পুরোনো উড়োজাহাজে এই আপডেট কাজ করবে না—তাতে অনবোর্ড কম্পিউটার পুরোপুরি বদলাতে হবে। এই কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেগুলো যাত্রী পরিবহন করতে পারবে না। প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ কত দ্রুত পাওয়া যাবে, তার ওপর নির্ভর করবে সময়।

এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে এয়ারবাস।

বিমান চলাচল বিশ্লেষক স্যালি গেথিন বিবিসিকে বলেন, পরিস্থিতি “অত্যন্ত অস্বাভাবিক”। তিনি জানান, যাত্রীদের জন্য বিঘ্নের মাত্রা নির্ভর করবে বিভিন্ন এয়ারলাইনের নিজস্ব আপডেট পদ্ধতির ওপর।

বিভিন্ন এয়ারলাইনে প্রভাবের মাত্রা ভিন্ন। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ তুলনামূলক কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উইজ এয়ার ও এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে আপডেটের কাজ শুরু করেছে।

যুক্তরাজ্যে এখন পর্যন্ত বড় কোনো প্রভাব পড়েনি। লন্ডনের গ্যাটউইকে কিছু ফ্লাইট বিঘ্ন দেখা গেলেও হিথ্রো কোনো বাতিলের খবর দেয়নি। ম্যানচেস্টার বিমানবন্দরও উল্লেখযোগ্য সমস্যার আশা করছে না।

পাবলিক ডেটা অনুযায়ী, এয়ার ফ্রান্স সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে। শনিবার সকালে তাদের প্যারিস হাব থেকে এবং হাবে যাওয়ার ৫০টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাংবাদিক সাইমন ক্যালডার।

ইজিজেট জানিয়েছে, তারা কিছু জটিলতা আশা করছে। তবে পরে জানায়, তাদের বেশির ভাগ উড়োজাহাজেই আপডেট সম্পন্ন হয়েছে এবং শনিবার পূর্ণ সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এয়ারবাস জানায়, সমস্যাটি প্রথম ধরা পড়ে অক্টোবর মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকো যাওয়ার পথে একটি উড়োজাহাজ হঠাৎ উচ্চতা হারানোর ঘটনায় তদন্ত করতে গিয়ে। জেটব্লু এয়ারওয়েজের সেই ফ্লাইটে অন্তত ১৫ জন আহত হন এবং ফ্লোরিডায় জরুরি অবতরণ করতে হয়।

আমেরিকান এয়ারলাইন্স বলেছে, তাদের ৩৪০টি উড়োজাহাজ প্রভাবিত হয়েছে এবং কিছু বিলম্ব হতে পারে। তবে আপডেটের বেশির ভাগ কাজ শুক্রবার বা শনিবারের মধ্যেই শেষ হবে বলে আশা করছে তারা। ডেল্টা জানিয়েছে, তাদের কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না।

যুক্তরাজ্যের সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটির নীতি পরিচালক টিম জনসন বলেন, এয়ারবাসের এই নোটিশের প্রভাবে আগামী কয়েক দিনে কিছু ফ্লাইট বিঘ্ন, বিলম্ব বা বাতিল হতে পারে। তবে তিনি আশ্বস্ত করেন—কঠোর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার কারণে বিমান ভ্রমণ এখনও বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থাগুলোর একটি এবং এ ধরনের ব্যাপক স্থগিতাদেশ খুব বিরল ঘটনা।