ঢাকা, মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি: শত্রুর আক্রমণের অপেক্ষা নয়, জাতীয় স্বার্থে আঘাত এলেই 'বিধ্বংসী জবাব'!


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ০২:১১ পিএম

ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি: শত্রুর আক্রমণের অপেক্ষা নয়, জাতীয় স্বার্থে আঘাত এলেই 'বিধ্বংসী জবাব'!

ইরানের সেনাবাহিনীর প্রধান কমান্ডার এক কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের হুমকি দেখা দিলে ইরান দ্রুতই সিদ্ধান্তমূলক এবং ধ্বংসাত্মক জবাব দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, ইরানের প্রতিরক্ষা কৌশল 'সক্রিয় প্রতিরোধে'র ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে।

নৌবাহিনীতে নতুন দুটি ডেস্ট্রয়ার—'সাহান্দ' এবং 'কুর্দিস্তান'—যুক্ত করার অনুষ্ঠানে মেজর জেনারেল আমির হাতামি এই হুঙ্কার দেন।

তিনি বলেন, "আমরা শত্রুর আক্রমণের জন্য অপেক্ষা করি না। জাতীয় স্বার্থ যেখানেই হুমকির মুখে পড়বে, সেখানেই আমরা সিদ্ধান্তমূলক ও ধ্বংসাত্মক জবাব দেব।"

ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় নৌবাহিনীর ত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ইরানের সামরিক শক্তি কেবল দেশটির জন্য নয়, পুরো অঞ্চলের জন্যই নিরাপত্তার উৎস। অন্যদিকে, ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে তৈরি হওয়া ঘনিষ্ঠতা নষ্ট করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

মেজর জেনারেল হাতামি আরও বলেন, "আজ আঞ্চলিক নিরাপত্তা আর প্রতিটি দেশের নিরাপত্তাকে আলাদা করে দেখা যায় না।"

তাঁর দাবি, ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর প্রায় পাঁচ দশকের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে—আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ইরানের ভূমিকা 'গঠনমূলক ও অপরিহার্য'। গত দুই বছরের ঘটনাপ্রবাহ স্পষ্ট করেছে কোন দেশগুলো প্রকৃতপক্ষে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নষ্ট করছে, এ নিয়ে নিরপেক্ষ কারও সন্দেহ থাকার কথা নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ইরান অভিযোগ করেছে, গত ১৩ জুন ইসরায়েল তাদের বিরুদ্ধে একটি অঘোষিত যুদ্ধ শুরু করে, যেখানে বহু উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা, পরমাণু বিজ্ঞানী এবং বেসামরিক মানুষ নিহত হন।

পরে এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রও জড়িয়ে পড়ে। ইরান দাবি করে, যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘ সনদ, আন্তর্জাতিক আইন এবং এনপিটি (NPT) লঙ্ঘন করে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালায়।

এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পাল্টা আক্রমণ করে। তারা দখলকৃত অঞ্চলের বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনা এবং পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ঘাঁটি—কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে—আক্রমণ চালায়।

২৪ জুন ইরান দাবি করে যে তারা সফল পাল্টা অভিযানের মাধ্যমে এই বেআইনি সামরিক হামলা থামাতে সক্ষম হয়েছে।

ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন—দেশটির বিরুদ্ধে নতুন কোনো আগ্রাসন চালানো হলে জবাব আরও কঠোর হবে।

বৃহস্পতিবার সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অফ স্টাফ মেজর জেনারেল আবদুল রহিম মুসাভি বলেন, ইরানের কৌশলগত নৌবাহিনী যেকোনো সম্ভাব্য আগ্রাসনের বিরুদ্ধে 'দৃঢ় ও অনুশোচনাদায়ক' প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সংঘর্ষে নৌবাহিনী তাদের পূর্ণ সক্ষমতা দেখিয়েছে—বিশেষ করে জুনের যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া ১২ দিনের যুদ্ধের সময়। ওই সময়ে তারা প্রমাণ করেছে যে যেকোনো হামলার জবাব দিতে তারা 'সিদ্ধান্তমূলক, কার্যকর ও অনুশোচনাদায়ক'।