এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ১১:১১ পিএম
ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের নান্দেদ জেলার একটি গ্রামে প্রেমের শক্তি কতটা অটুট থাকতে পারে, তার এক মর্মস্পর্শী ও মর্মান্তিক দৃষ্টান্ত দেখা গেল। নিচু জাতের হওয়ায় ২০ বছর বয়সী সক্ষম তাঁতীর উচ্চবর্ণের মেয়ে আঁচলের সঙ্গে প্রেম ছিল সমাজের চোখে অপরাধ। আর এই 'দুঃসাহসের' শাস্তি দিতেই আঁচলের পরিবারই সক্ষমকে হত্যা করেছে বলে ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে।
কিন্তু এই নিষ্ঠুর হত্যা থেকেও দমে যায়নি তাদের প্রেম। প্রেমিকের মৃত্যুর পরও আঁচল সক্ষমকে ছাড়তে রাজি হননি। বরং সক্ষমের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় গিয়ে তিনি মৃত প্রেমিকের দেহেই হলুদ মাখান এবং নিজের কপালে সিঁদুর পরেন। এভাবেই তিনি মৃত্যুর পরও প্রেমিককে বিয়ে করে নেন। আরও ঘোষণা দেন, জীবনের বাকি দিনগুলো তিনি সক্ষমের বাড়িতেই পুত্রবধূ হিসেবে থেকে যাবেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আঁচলের ভাইদের সূত্রেই তাঁর সঙ্গে সক্ষমের প্রথম পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে বাড়িতে যাতায়াত বাড়ার সাথে সাথেই তিন বছর ধরে তাদের মধ্যে একটি গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু যখনই আঁচলের পরিবার এই প্রেমের সম্পর্কের ব্যাপারে জানতে পারে, তখনই তারা বর্ণগত কারণ দেখিয়ে এই সম্পর্ক মেনে নিতে অস্বীকার করে। হুমকি-ধমকি সত্ত্বেও আঁচল সম্পর্ক ছাড়তে রাজি হননি, বরং দুজনেই গোপনে বিয়ের পরিকল্পনা করতে থাকেন।
কিন্তু গত বৃহস্পতিবার আঁচলের বাবা ও ভাই তাদের বিয়ের পরিকল্পনার কথা জেনে যায়। এরপরই তারা সক্ষমকে তাঁর নিজের বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়, গুলি করা হয় এবং সবশেষে পাথর দিয়ে তাঁর মাথা থেঁতলে দিয়ে হত্যা করা হয়— স্থানীয় বাসিন্দাদের এমনই ভয়াবহ অভিযোগ।
সক্ষমের মৃত্যুর খবর শুনেই আঁচল ছুটে যান তাঁর শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে। সেখানে পৌঁছে তিনি মৃত প্রেমিকের দেহে হলুদ মাখান এবং নিজের কপালে সিঁদুর পরেন— যা হিন্দু রীতিতে বিয়ের প্রতীক। এভাবেই তিনি মৃত অবস্থায়ই সক্ষমকে বিয়ে করে নেন।
সেদিন তিনি সবার সামনে ঘোষণা দেন, "সক্ষম আজ আমাদের মধ্যে নেই, কিন্তু আমাদের ভালোবাসা আজও বেঁচে আছে। আমার বাবা-ভাইয়েরা জিততে পারেনি, জয়ী হয়েছে আমাদের প্রেম।" পাশাপাশি তিনি তাঁর প্রেমিকের হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিও জানান।