ঢাকা, সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২৬ | ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

ইউক্রেনের ‘সবচেয়ে বড় সমস্যা’ কী, জানালেন ট্রাম্প


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ০১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৬:১২ পিএম

ইউক্রেনের ‘সবচেয়ে বড় সমস্যা’ কী, জানালেন ট্রাম্প

রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের টানাপোড়েনে এখন সবচেয়ে বড় সংকটে রয়েছে ইউক্রেন। এর মধ্যেই দেশটির সবচেয়ে শক্তিশালী মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিয়েভকে কঠোর শর্ত দিয়েছেন—মস্কোর সঙ্গে আপস না করলে মার্কিন সহায়তা বন্ধ করে দেওয়া হবে। তাই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হলে এখন নতুন এক রাজনৈতিক চাপের মুখে দেশটি।

কিন্তু কেন এমন কঠোর অবস্থান নিলেন ট্রাম্প? রোববার এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন,
“ইউক্রেনের কিছু সমস্যা আছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো দুর্নীতি। কিয়েভ কিছুতেই দুর্নীতি থামাতে পারছে না। ইউক্রেনের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য মূলত দায়ী দুর্নীতি।”

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, জার্মানিসহ পশ্চিমা দেশগুলো ইউক্রেনকে হাজার হাজার কোটি ডলার মূল্যের অর্থ ও অস্ত্র দিয়েছে। কিন্তু সেই সহায়তার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ লুটপাট হয়েছে—এমন অভিযোগ বহু দিন ধরেই রয়েছে, যার সঙ্গে জড়িত দেশটির উচ্চপদস্থ সরকারি ও সামরিক কর্মকর্তারা।

সম্প্রতি এই দুর্নীতির বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয় গত নভেম্বরের শুরুতে। জ্বালানি খাতে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বরখাস্ত করেন দুই মন্ত্রীকে—

তাদের বিরুদ্ধে ১০ কোটি ডলার ঘুষ নেওয়া চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এতেই শেষ নয়—নিজের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সাবেক ব্যবসায়িক অংশীদার তিমুর মিনদিচের বিরুদ্ধেও ব্যক্তিগত নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন জেলেনস্কি। অভিযোগ, পুরো ঘুষ চক্রের সমন্বয়ন করছিলেন মিনদিচ।

দুর্নীতির এই ঢেউ নিয়ে জনরোষ বাড়তে থাকায় জেলেনস্কি স্বীকার করেন,
“জ্বালানি খাতের সব কাজে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা থাকা উচিত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দুর্নীতিবিরোধী কর্মকর্তাদের প্রতিটি তদন্ত আমি সমর্থন করি।”

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাগুলো জেলেনস্কির জন্য বড় রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে। নিজের ঘনিষ্ঠজনদের কারাগারে পাঠানো বা বরখাস্ত করা কঠিন সিদ্ধান্ত হলেও দুর্নীতিবিরোধী কর্মী, বিরোধী দলীয় নেতা এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে তাকে এ পদক্ষেপ নিতে চাপ দিচ্ছিলেন।