ঢাকা, মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

ইসরায়েলের নির্যাতনের 'রাষ্ট্রীয় নীতি'! জাতিসংঘের চোখে ফিলিস্তিনিদের কান্না, বিশ্বকে জাগরণের ডাক


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ০১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:১২ পিএম

ইসরায়েলের নির্যাতনের 'রাষ্ট্রীয় নীতি'! জাতিসংঘের চোখে ফিলিস্তিনিদের কান্না, বিশ্বকে জাগরণের ডাক

জাতিসংঘের নির্যাতন বিষয়ক কমিটি এক অভূতপূর্ব প্রতিবেদনে বলেছে, ইসরায়েল পরিকল্পিতভাবে এবং রাষ্ট্রীয় নীতি অনুসরণ করে ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। কমিটি নিশ্চিত করেছে, ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে "সংগঠিত ও ব্যাপক নির্যাতন চালানোর জন্য রাষ্ট্রীয় নীতি" অনুসরণ করছে।

গত দুই বছরের ঘটনার পর্যালোচনার ভিত্তিতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধাপরাধে দায়ী ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীকে বিচার থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

পার্সটুডে’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি আটক কেন্দ্রগুলোতে ফিলিস্তিনিদের নিয়মিতভাবে মারধর, প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে আক্রমণ, বৈদ্যুতিক শক, পানিতে ডুবানো এবং যৌন সহিংসতা করা হচ্ছে। আটক ব্যক্তিদেরকে অপমানজনক কাজ করতে বাধ্য করা হয় এবং ইচ্ছাকৃতভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা থেকেও বঞ্চিত করা হয়।

১০ জন স্বাধীন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞের কমিটি জানিয়েছে, ইসরায়েল বিচার ছাড়াই হাজার হাজার ফিলিস্তিনিকে আটক রাখছে, যার মধ্যে নারী ও শিশু অন্তর্ভুক্ত। ইসরায়েলি সংস্থা বি’তসেলেমের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ৩,০০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি বন্দীকে কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে।

প্রতিবেদনে ১২ বছর বয়সী শিশুদেরও আটক রাখার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এটি জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদের চরম লঙ্ঘন। আটক শিশুদেরকে নির্জন কারাগারে রাখা হয় এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ও শিক্ষার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত করা হয়।

এছাড়াও, গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলি আটক কেন্দ্রগুলোতে ৭৫ জন ফিলিস্তিনি মারা গেছেন, কিন্তু এ জন্য কোনও কর্মকর্তাকে দায়ী করা হয়নি।
জাতিসংঘের নির্যাতন বিষয়ক কমিটি মনে করছে, “ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি নীতির পুরো কাঠামোকে পদ্ধতিগত নির্যাতন হিসাবে দেখা যায়”। প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই অপরাধ বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।