ঢাকা, মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬ | ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

সব রেকর্ড ভেঙে চুরমার! ভারতীয় রুপির মান সর্বকালের সর্বনিম্নে, কেন এমন বিপর্যয়? 


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ০৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৩:১২ পিএম

সব রেকর্ড ভেঙে চুরমার! ভারতীয় রুপির মান সর্বকালের সর্বনিম্নে, কেন এমন বিপর্যয়? 

ভারতের মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা যেন থামছেই না। চলতি বছরজুড়ে রুপির দর ক্রমেই নিচের দিকে নামছিল, তবে  তা অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশের অর্থনীতিবিদদের মধ্যে এই নিয়ে এখন চলছে চরম উদ্বেগ।

সর্বকালের সর্বনিম্ন: মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপির মান নেমে দাঁড়িয়েছে ৮৯ দশমিক ৭৩-এ, যা মাত্র দুই সপ্তাহ আগের ৮৯ দশমিক ৪৯-এর পূর্বের সর্বনিম্ন মানকেও ছাড়িয়ে গেছে। যদিও দেশটির শেয়ারবাজার এখনও শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে, তবুও রুপি এই বছর এশিয়ার সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রাগুলোর অন্যতম হয়ে উঠেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা: বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি নিয়মিত বাজারে ডলার সরবরাহ না করত, তবে পতনের হার আরও অনেক বেশি হতো। রিজার্ভ ব্যাংককে মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখতে তাই নিয়মিত হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও দুর্বলতা: রুপির এই নিম্নগতি এমন সময়ে দেখা গেল, যখন ভারতের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ২ শতাংশে—যা বহু সংস্থার পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি। কিন্তু এই অর্থনৈতিক শক্তি থাকা সত্ত্বেও মুদ্রাবাজারে এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি।

যে কারণে বাড়তি চাপ: ব্যাংক ও আর্থিক বিশ্লেষকদের মতে, বেশ কয়েকটি কারণ রুপির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে:

যুক্তরাষ্ট্র–ভারত বাণিজ্যচুক্তিতে অগ্রগতি না হওয়া।
আমদানিকারকদের ঝুঁকি–ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম।
চলমান লেনদেন ঘাটতি।
গত অক্টোবরে ভারতের পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানো।

বিদেশি পুঁজি প্রত্যাহার ও সতর্কতা: জেপি মর্গানের অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে রুপির কিছুটা অবমূল্যায়ন স্বাভাবিক হলেও, যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্যচুক্তি যতদিন ঝুলে থাকবে, রুপির ওপর চাপ ততই বাড়বে। সম্প্রতি আশা ছিল যে ভারতীয় রপ্তানির ওপর আরোপিত ৫০ শতাংশ আমেরিকান শুল্ক কমতে পারে। কিন্তু কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না আসায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমেছে। ফলস্বরূপ, চলতি বছর ভারতীয় শেয়ারবাজার থেকে ১৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিদেশি পুঁজি বেরিয়ে গেছে।