ঢাকা, মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

গাজায় যুদ্ধবিরতি ভেঙে ইসরাইলের বোমা হামলা! দুই শিশুসহ ৭ ফিলিস্তিনি মারা গেলেন


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ০৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৫:১২ পিএম

গাজায় যুদ্ধবিরতি ভেঙে ইসরাইলের বোমা হামলা! দুই শিশুসহ ৭ ফিলিস্তিনি মারা গেলেন

অবরুদ্ধ গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি থাকলেও ইসরাইলি বাহিনী থামছে না।চালানো হামলায় দুই শিশুসহ সাত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, এর মধ্যে দুই শিশুর বয়স ছিল ৮ আর ১০ বছর।

ইসরাইলি সেনাবাহিনীর দাবি, মিশর সীমান্তের কাছে দক্ষিণ রাফায় হামাস তাদের যোদ্ধাদের ওপর হামলা চালিয়ে চার সেনাকে আহত করার পর এই হামলা চালানো হয়েছে।
এদিকে রাফাহ সীমান্ত খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরাইল। তবে তেল আবিব বলছে, এই ক্রসিং দিয়ে শুধু গাজার বাসিন্দারা উপত্যকা ছেড়ে যেতে পারবে – কোনো ত্রাণ বা সাহায্য প্রবেশ করবে না।

কিন্তু মিশর এটাকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের শান্তি পরিকল্পনার বিপরীত আর একতরফা সিদ্ধান্ত বলে কড়া সমালোচনা করেছে। মার্কিন পরিকল্পনায় ছিল, রাফাহ সীমান্ত উভয় দিক থেকে খোলা রাখা।

এর মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে হামাস আরেক ইসরাইলি জিম্মির মরদেহ হস্তান্তর করেছে। বুধবার বেইত লাহিয়ায় হামাস সদস্যরা রেডক্রসের কাছে মরদেহ দেয়, পরে সেটা ইসরাইলে পৌঁছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুসারে, বুধবার ইসরাইলি বাহিনী অভিযোগ করে যে, রাফা সীমান্তের কাছে অভিযান চালানোর সময় হামাসের অতর্কিত হামলায় কয়েকজন সেনা আহত হয়েছে। এরপর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কড়া জবাবের হুঁশিয়ারি দেন।

তারপরই বেশ কয়েক জায়গায় হামলা শুরু। উত্তর গাজা শহরের জেইতুন উপকণ্ঠে ইসরাইলি বন্দুকধারীদের গুলিতে দুই ফিলিস্তিনি নিহত। আর দক্ষিণ আল-মাওয়াসি ক্যাম্পে হামলায় পাঁচজন মারা যান।

আল-মাওয়াসিতে বোমা হামলায় আগুন লেগে কয়েকটা তাঁবু পুড়ে যায়। গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল বলেন, ‘ইসরাইলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই শিশুসহ পাঁচজন নিহত, আরও কয়েকজন আহত – যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।’ কুয়েতি হাসপাতালের সূত্র বলছে, নিহত শিশুদের বয়স ৮ ও ১০ বছর।

ফিলিস্তিনি ওয়াফা সংবাদ সংস্থা বলছে, নিহতদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়েছিলেন। হামাস আল-মাওয়াসির হামলার নিন্দা করে এটাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলেছে। তারা বলছে, ইসরাইল যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রতি অবজ্ঞা দেখাচ্ছে।

হামাস মধ্যস্থতাকারী মিশর, কাতার ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইসরাইলি বাহিনীর লাগাম টানার দাবি জানিয়েছে। গাজার কর্তৃপক্ষ বলছে, ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি বাহিনী কমপক্ষে ৫৯১ বার চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। এতে কমপক্ষে ৩৬০ ফিলিস্তিনি নিহত আর ৯২২ আহত হয়েছে।