ঢাকা, মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

জাওয়াহিরিকে খতম করা হল কীভাবে? রুদ্ধশ্বাস সেই অভিযানের কথা বলল পেন্টাগন


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ০৪ আগস্ট, ২০২২, ০১:০৮ পিএম

জাওয়াহিরিকে খতম করা হল কীভাবে? রুদ্ধশ্বাস সেই অভিযানের কথা বলল পেন্টাগন

জাওয়াহিরিকে খতম করা হল কীভাবে? রুদ্ধশ্বাস সেই অভিযানের কথা বলল পেন্টাগন

কাবুলের যে বাড়িটিকে সুরক্ষিত মনে করে থাকছিলেন আল-কায়দা প্রধান আয়মান আল-জাওয়াহিরি (al-Zawahiri) সেটিতে বহুদিন ধরেই নজর ছিল মার্কিন ইনটেলিজেন্স বাহিনীর। কাবুলের অভিজাত মহল্লায় জাওয়াহিরির গোপন ডেরার খোঁজ পেন্টাগনকে কে দিল সে নিয়েই এখন জোর জল্পনা চলছে। মনে করা হচ্ছে, আল কায়দার এই নেতার বিরুদ্ধে অভিযানে পাক তালিবান বা হক্কানি-বিরোধী গোষ্ঠীর একাংশের হাত থাকতে পারে। জাওয়াহিরির প্রতিটা পদক্ষেপের খবর নিঃশব্দেই পৌঁছে যাচ্ছিল মার্কিন বাহিনীর কাছে।

কাবুলে আমেরিকার ড্রোন হামলায় মোস্ট-ওয়ান্টেড জঙ্গি আল-কায়দার মাথা আয়মান আল-জাওয়াহিরির খতম হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আনেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। টুইটার পোস্টে তিনি লেখেন, “এতদিনে যথার্থ বিচার হয়েছে”। কারণ এর আগেও একবার অসুস্থতার কারণে জাওয়াহিরির মৃত্যুর খবর আল-কায়দা গোষ্ঠী ছড়িয়ে দিয়েছিল। পরে রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে জানা যায়, বহাল তবিয়তেই পাক-আফগানিস্তান সীমান্তের কোনও নিরাপদ জায়গায় গা ঢাকা দিয়ে আছেন মিশরীয় জিহাদি নেতা (al-Zawahiri)। জাওয়াহিরি কোথায় লুকিয়ে আছেন সেটা বের করাই ছিল মার্কিন ইনটেলিজেন্স বাহিনীর লক্ষ্য।

মার্কিন ইনটেলিজেন্স বাহিনী (সিআইএ) অনেক বছর ধরেই মোস্ট-ওয়ান্টেড জঙ্গিদের খুঁজে বের করে খতম করার চ্যালেঞ্জ নিয়েছে। তাদের এই অভিযানের নাম pattern-of-life intelligence। এর কাজই হল সন্ত্রাসবাদীদের ধরে ধরে নিকেশ করা। জাওয়াহিরি-হত্যার জন্যও এই বাহিনীকেই কাজে লাগানো হয়েছিল। পেন্টাগন সূত্রে খবর, জাওয়াহিরি (al-Zawahiri) কাবুলের যে অভিজাত মহল্লায় থাকছিলেন সেখানে আশপাশে অনেক বাড়িঘর রয়েছে। তাই জঙ্গি নেতাকে খতম করতে এমন অস্ত্রই দরকার ছিল যা নীরবে কাজ করবে। বিস্ফোরণের শব্দটুকু হবে না। মার্কিন বাহিনীর অতি শক্তিশালী ‘মৃত্যুদূত’ নিনজা হেলফায়ার মিসাইলকেই এক্ষেত্রে কাজে লাগানো হয়েছিল। কোনওরকম বিস্ফোরণ না ঘটিয়ে নিঃশব্দে আল-কায়দা প্রধানকে খতম করে এই অস্ত্র।

গোয়েন্দা সূত্রই বলছে, ঠিক যে সময়টা বারান্দায় জাওয়াহিরি একা সময় কাটান সেই সময়টাকেই টার্গেট করা হয়। ঘটনার দিনেও একা বারান্দায় বসে বই পড়ছিলেন আল-জাওয়াহিরি (al-Zawahiri)। তার ওপর নজর রাখছিল মার্কিন বাহিনীর প্রিডেটর ড্রোন। সেই ড্রোন থেকেই সুযোগ বুঝে নিক্ষেপ করা হয় হেলফায়ার আর৯এক্স। ৬টি ধারালো ব্লেডের এই ক্ষেপণাস্ত্রকে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী নাম দিয়েছে ‘নিনজা বম্ব’। এই অস্ত্রের আরও এক নাম ‘ফ্লাইং গিনসু’। বিস্ফোরণের শব্দ না করেই হামলা করতে পারে এই ঘাতক অস্ত্র। জানা গেছে, জাওয়াহিরির বাড়ির জানলার কাচই শুধু উড়েছিল অস্ত্রের আঘাতে। আর কোনও হামলার চিহ্ন ছিল না। আশপাশের বাড়িগুলিরও কোনও ক্ষতি হয়নি।

২০২০ সালে ইরানের এলিট কুদস বাহিনীর প্রধান কাসেম সুলেমানিকে খতম করতেও এই শক্তিশালী হেলফায়ার মিসাইলেরই প্রয়োগ করেছিল আমেরিকা। যত ধরনের শক্তিশালী যুদ্ধট্যাঙ্ক (ওয়ার ট্যাঙ্ক) রয়েছে, সবকেই গুঁড়িয়ে দুরমুশ করে দিতে পারে এই হেলফায়ার মিসাইল। এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রকে চালনা করা হয় লেজারের মাধ্যমে। যুদ্ধবিমান বা সশস্ত্র ড্রোন থেকে নিক্ষেপ করা যায় এই মিসাইল (Hellfire)। বিশেষ করে আমেরিকার সেনারা তাদের এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন থেকে এই ধরনের যুদ্ধাস্ত্রের প্রয়োগ করে।  জাওয়াহিরিকে খতম করতেই একইভাবে অস্ত্র নিক্ষেপ করে মার্কিন বাহিনী।খবর দ্য ওয়ালের /এনবিএস/২০২২/একে