ঢাকা, সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২৬ | ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

"থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্তে ৩ দিন ধরে যুদ্ধ, আতঙ্কে গৃহহারা ৫ লাখ মানুষ!"


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:১২ পিএম

"থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্তে ৩ দিন ধরে যুদ্ধ, আতঙ্কে গৃহহারা ৫ লাখ মানুষ!"

থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে সংঘর্ষ টানা তৃতীয় দিন ধরে চলছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় অবিরাম গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলার কারণে পাঁচ লাখেরও বেশি বেসামরিক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির চিত্র উঠে এসেছে।

সপ্তাহের শুরুতে সংঘর্ষ শুরুর পর এ পর্যন্ত কমপক্ষে ১৩ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে সেনা ও বেসামরিক মানুষ উভয়ই রয়েছেন। সীমান্তের উভয় পাশেই ব্যাপক নিরাপত্তা হুমকির মুখে ৫ লাখেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।

থাইল্যান্ডের অবস্থান
থাইল্যান্ডের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাতটি প্রদেশে ৪ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে। মুখপাত্র সুরসান্ত কংসিরি বলেন, "বেসামরিক লোকদের নিরাপত্তার জন্য তাদের বিপুল সংখ্যক সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।"

থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনীর বক্তব্য অনুযায়ী, বুধবার সকালে কম্বোডিয়া থেকে ছোড়া একটি রকেট সুরিন প্রদেশের ফানম ডং রাক হাসপাতালে এসে পড়ে। এই হামলায় রোগী ও হাসপাতালের কর্মীরা দ্রুত বাঙ্কারে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।

কম্বোডিয়ার পালানোর পালা
অন্যদিকে, কম্বোডিয়ার জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পাঁচটি প্রদেশে ১ লাখ ১ হাজার ২২৯ জন মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল বা আত্মীয়স্বজনের কাছে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

কম্বোডিয়ান সংবাদমাধ্যম কম্বোডিয়ানেস দাবি করেছে যে থাইল্যান্ডের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান তাদের দুইটি এলাকায় হামলা চালিয়েছে। সীমান্তবর্তী আরও তিনটি এলাকায় গোলাগুলি অব্যাহত রয়েছে। থাইল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম দ্য নেশন জানিয়েছে, বুধবার ভোরে কম্বোডিয়া থাইল্যান্ডের ৪টি প্রদেশের ১২টি ফ্রন্ট-লাইন এলাকায় গুলিবর্ষণ করেছে।

সাংবাদিকের সরেজমিন রিপোর্ট
সুরিন প্রদেশ থেকে সরাসরি রিপোর্ট করা আল-জাজিরার সাংবাদিক রব ম্যাকব্রাইড জানান, "সীমান্তের উভয় পাশে কয়েক লাখ মানুষ বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে গেছে এবং লড়াই অব্যাহত রয়েছে।" তার এই বর্ণনা স্থানীয় বেসামরিক জনগণের আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মাত্রা স্পষ্ট করে তুলেছে।