এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৮:১২ পিএম
অস্ট্রেলিয়ায় চলমান অ্যাশেজ ২০২৫–২৬ সিরিজে ভয়াবহ ব্যর্থতার পর ইংল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দলের কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম অবশেষে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুলেছেন।
ইংল্যান্ডের হেড কোচ হিসেবে নিজের ভবিষ্যৎ যে তার হাতে নেই, সেটি স্পষ্ট করে দিয়েছেন ম্যাককালাম। তবে একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, দলকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার জন্য তিনিই এখনো সঠিক মানুষ।
“আমি শুধু নিজের কাজটাই করে যাব”—ব্রেন্ডন ম্যাককালাম
ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর ‘বাজবল’ নামে আক্রমণাত্মক ও বিনোদনধর্মী ক্রিকেট দর্শনের সূচনা করেন ম্যাককালাম। তার অধীনে শুরুতে দারুণ সাফল্য পায় ইংল্যান্ড। দীর্ঘ সময়ের ব্যর্থতার পর আবারও টেস্টে জয় পেতে শুরু করে দলটি।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সমালোচনাও বাড়ে। অনেক সাবেক ক্রিকেটারের মতে, ইংল্যান্ড অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয়ে পড়েছে এবং কন্ডিশন অনুযায়ী খেলার ধরন বদলাতে চাইছে না।
ম্যাককালাম ও অধিনায়ক বেন স্টোকসের যুগে ইংল্যান্ড ৪৪টি টেস্টের মধ্যে জিতেছে ২৫টি, হেরেছে ১৭টি। তবে ২০২৪ সাল থেকে চিত্র বদলেছে—এই সময়ে ১৩টি টেস্টে হেরে মাত্র ১২টিতে জয় পেয়েছে দলটি। চলমান অ্যাশেজ সিরিজও দুই ম্যাচ বাকি থাকতেই হার নিশ্চিত হয়েছে।
এই ব্যর্থতার পর ম্যাককালামকে বরখাস্ত করার দাবিও উঠেছে। ২০২৬ সালের ইংলিশ সামারে তিনি দায়িত্বে থাকবেন কি না—এমন প্রশ্নে ম্যাককালামের উত্তর ছিল স্পষ্ট,
“আমি জানি না। এটা আমার হাতে নেই। আমি শুধু নিজের কাজটা করে যাব, ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করব এবং কিছু পরিবর্তন আনব। এই সিদ্ধান্ত অন্যদের নেওয়ার বিষয়।”
উল্লেখ্য, শুরুতে কেবল লাল বলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিলেও পরে ২০২৭ সাল পর্যন্ত চুক্তি বাড়িয়ে সব ফরম্যাটের কোচ হন ম্যাককালাম। নির্ধারিত সময়ের আগে তাকে ছাঁটাই করা হলে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ECB) ক্ষতি হতে পারে এক মিলিয়ন পাউন্ডেরও বেশি।
“এই সিদ্ধান্ত অন্যদের”—ম্যাককালাম
ম্যাককালাম জানান, ইংল্যান্ড দলের সঙ্গে সময় কাটাতে তিনি উপভোগ করছেন এবং তার সময়ে দল অনেকটাই এগিয়েছে।
তিনি বলেন,
“এই চাকরিটা দারুণ। সারা বিশ্ব ঘোরা, ছেলেদের সঙ্গে থাকা, রোমাঞ্চকর ক্রিকেট খেলা—সব মিলিয়ে উপভোগ্য। আমার লক্ষ্য সব সময় খেলোয়াড়দের সেরা পারফরম্যান্স বের করে আনা।”
“এই ধরনের সিদ্ধান্ত অন্যদের হাতে। তবে আমি মনে করি, দায়িত্ব নেওয়ার সময়ের তুলনায় আমরা এখন ভালো জায়গায় আছি। আমরা এখনও পরিপূর্ণ দল নই, কিন্তু উন্নতি হয়েছে। আমাদের একটা পরিচয় তৈরি হয়েছে। শেষ দুই টেস্টে সেটাই দেখানোর সময়।”
“এই হারটা কষ্ট দেবে”—ম্যাককালাম
যদিও অ্যাশেজ হাতছাড়া হয়ে গেছে, তবু ইংল্যান্ডের সামনে এখনো সুযোগ আছে। আইসিসি ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টের পাশাপাশি ২০১১ সালের পর অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম টেস্ট জয়ের লক্ষ্যও রয়েছে।
মেলবোর্ন ও সিডনিতে বাকি দুই টেস্ট জিতে মান বাঁচাতে চান ম্যাককালাম। তিনি বলেন,
“আমাদের পরের ম্যাচটা জিততেই হবে। চাপ আর প্রত্যাশা থাকবে—এটা মেনে নিয়েই খেলতে হবে। মাঠে নামার পর শুধু ক্রিকেটটাই খেলতে চাই।”
“দলের মধ্যে ঐক্য আর মনোবল আছে। সবাই নিজেদের দায়িত্ব বুঝে খেলছে। এই হারটা নিঃসন্দেহে কষ্ট দেবে, কিন্তু মেলবোর্ন আর সিডনিতে আমাদের কাজ এখনো বাকি। শেষ দুই টেস্ট থেকে কিছু আদায় করতে পারলে সেটাই হবে বড় প্রাপ্তি।”