ঢাকা, মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

‘শেষ আগ্রাসনই হবে তোমাদের শেষ’—ইরানের কঠিন হুঁশিয়ারি ইসরায়েল-আমেরিকাকে!


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ০৭ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৫:০১ পিএম

‘শেষ আগ্রাসনই হবে তোমাদের শেষ’—ইরানের কঠিন হুঁশিয়ারি ইসরায়েল-আমেরিকাকে!

গত কয়েক বছর ধরে ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতারা “কৌশলগত ধৈর্য” নীতির জন্য পরিচিত। এর মূল কথা—হুট করে প্রতিক্রিয়া না দেখানো এবং উত্তেজনা বাড়ানোর প্রথম পক্ষ না হওয়া। গত দুই বছরেও তেহরান মোটামুটি এই লাইনেই ছিল। অথচ এই সময়ে ইসরায়েল পুরো অঞ্চলকে যেন আগুনে ঠেলে দিয়েছে এবং ইরান ও তার মিত্রদের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুরোদস্তুর যুদ্ধে জড়ানোর জন্য একের পর এক লাল রেখা পেরিয়ে গেছে।

২০২৪ সালে ইসরায়েল দুবার ইরানকে সরাসরি লক্ষ্য করলেও, বাড়তি উত্তেজনা এড়াতে তেহরান প্রতিশোধ সীমিত রেখেছে। অধিকৃত এলাকায় শুধু নির্দিষ্ট সামরিক ও নিরাপত্তা স্থাপনাতেই আঘাত হানে তারা। এমনকি গত বছর ইসরায়েল ও আমেরিকার উসকানিতে শুরু হওয়া ১২ দিনের যুদ্ধেও ইরান শান্ত থেকে শুধু ইসরায়েলি সামরিক, নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্থাপনাগুলোকেই টার্গেট করে।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও তেহরানের জবাব ছিল নির্দিষ্ট ও সীমিত। অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে তারা দুবার হামলা চালায়—প্রথমবার ২০২০ সালে, যখন ওয়াশিংটন এক শীর্ষ ইরানি জেনারেলকে হত্যা করে। দ্বিতীয়বার গত গ্রীষ্মের যুদ্ধে, ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার জবাবে।

কিন্তু এই সংযত কৌশল নিয়ে ইরানের ভেতরেই বহু বছর ধরে সমালোচনা চলছে। ১২ দিনের যুদ্ধের সময় সেই অসন্তোষ চরমে উঠে যায়। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, তখন ইরানের উচিত ছিল ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে আরও কঠিন ও প্রাণঘাতী জবাব দেওয়া। যদিও বাস্তবে ইরানের প্রতিক্রিয়াই ছিল নজিরবিহীন এবং শেষ পর্যন্ত সেটাই ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতিতে বাধ্য করে।

সমালোচকদের যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী পদক্ষেপগুলো আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী পুরোপুরি বেআইনি। তাই তেহরানের জন্য অতিরিক্ত নীতিনিষ্ঠ বা ‘রাজনৈতিকভাবে সঠিক’ থাকার চেষ্টা আর বাস্তবসম্মত নয়।

এখন পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতারাও তাদের ধৈর্যের শেষ সীমায় পৌঁছে গেছেন—বা হয়তো ইতিমধ্যে পেরিয়ে গেছেন। সম্প্রতি ট্রাম্প হুমকি দেন, ইরানের ভেতরে অর্থনৈতিক দুরবস্থার প্রতিবাদকে কাজে লাগিয়ে সশস্ত্র ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে দেশটিতে হামলা চালানো হবে। অথচ এই অর্থনৈতিক সংকট সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের বহু বছরের নিষেধাজ্ঞার ফল।