ঢাকা, বুধবার, জুলাই ১৫, ২০২৬ | ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

আইসিসি এখন ভারতীয়দের হাতের পুতুল! পাকিস্তানের সাবেক তারকার চাঞ্চল্যকর দাবি


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৪:০১ পিএম

আইসিসি এখন ভারতীয়দের হাতের পুতুল! পাকিস্তানের সাবেক তারকার চাঞ্চল্যকর দাবি

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এখন আর আগের মতো নেই, বরং পুরোপুরি ভারতীয়দের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে— এমন চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন পাকিস্তানের সাবেক লেজ স্পিনার সাঈদ আজমল। তিনি বলেন, বর্তমান কাঠামোয় আইসিসির কোনো 'বাস্তব গুরুত্ব' অবশিষ্ট নেই।

করাচিতে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে আজমল আইসিসির ভূমিকা ও নেতৃত্বের কঠোর সমালোচনা করেন। তাঁর মতে, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) অত্যধিক প্রভাবের কারণে আইসিসি আর নিরপেক্ষ ও নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। উল্লেখ্য, আইসিসির বর্তমান চেয়ারম্যান হচ্ছেন বিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি জয় শাহ।

আজমল স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "যদি আইসিসি ভারতীয় বোর্ডের উপর নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে না পারে, তাহলে এই সংস্থার অস্তিত্বেরই কোনো দরকার নেই। বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই-এর কারণেই আইসিসি পক্ষপাতহীনভাবে বিশ্ব ক্রিকেটের স্বার্থে কাজ করতে পারছে না।"

তিনি আরও দাবি করেন, অনেক টেস্ট খেলুড়ে দেশ তাঁর এই কথার সঙ্গে গোপনে একমত হলেও প্রকাশ্যে বলতে সাহস পায় না।

আজমল তাঁর বক্তব্যের পক্ষে উদাহরণ হিসেবে টেনে আনেন সাম্প্রতিক ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি-র কথা। নিরাপত্তার কথা বলে ভারত সেই টুর্নামেন্টে পাকিস্তানে খেলতে অস্বীকার করলে, আইসিসি ভারতের পক্ষেই রায় দেয় এবং দলটিকে দুবাইয়ে রেখে বাকি দলগুলোকে পাকিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে যাতায়াত করতে বাধ্য করে।

এ প্রসঙ্গে আজমল বলেন, "ভারতের পাকিস্তানে না খেলার পেছনে কোনো যুক্তিসংগত কারণ নেই। কিন্তু আইসিসি ভারতীয়দের নিয়ন্ত্রণে থাকায় তারা কিছুই করতে পারছে না।"

ভারতের সেই সিদ্ধান্তের পাল্টা জবাব দিতে পাকিস্তানও নিজেদের নীতি ঘোষণা করেছে। তারা জানিয়েছে, ভবিষ্যতের বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে তারা ভারতে খেলতে যাবে না। এই নীতির অংশ হিসেবেই ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান তাদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলবে বলে ঠিক করেছে।

আরও মজার বিষয় হলো, একই বিশ্বকাপে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশও ভারতে খেলতে অনীহা প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ইতিমধ্যে আইসিসির কাছে তাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরানোর আবেদন জানিয়েছে। তবে এখনও সে আবেদনে সাড়া দেয়নি আইসিসি।

এখন দেখার বিষয়, সাঈদ আজমলের এই সরাসরি ও কড়া অভিযোগের জবাবে আইসিসি বা বিসিসিআই কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায় কি না।