এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ১৭ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৪:০১ পিএম
প্রায় নয় দিন ধরে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন থাকার পর ইন্টারনেট ফিরে পেল ইরানের মানুষ। কিন্তু সেই স্বস্তির খবরের পাশেই রয়েছে এক ভয়াবহ পরিসংখ্যান। চলমান বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা এখন ছাড়িয়ে গেছে তিন হাজার। সরকারবিরোধী এই আন্দোলন কিছুটা স্তিমিত হলেও পরিস্থিতি যে পুরোপুরি শান্ত, তা বলছেন না কেউ।
মার্কিনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ-র দাবি, ইরানজুড়ে বিক্ষোভে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৩ হাজার ৯০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এই বিপুল সংখ্যার মধ্যে ২ হাজার ৮৮৫ জনই বিক্ষোভকারী। নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমন-পীড়নের মুখে আপাতত বড়সড় বিক্ষোভ থমটমে অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
রয়টার্সের সাথে কথা বলে তেহরানের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গত চার দিন ধরে রাজধানীতে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে শান্ত। তবুও নাগরিকদের মনে শান্তি নেই। শহরের আকাশে নিয়মিত উড়তে দেখা যাচ্ছে ড্রোন, যা একটা আতঙ্কের পরিবেশ বজায় রাখছে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বড় কোনো বিক্ষোভ দেখা যায়নি বলেই তাদের দাবি।
ইরানের উত্তরাঞ্চলে ক্যাস্পিয়ান সাগর তীরের শহরগুলোর অবস্থাও প্রায় একই রকম। সেখানকার এক বাসিন্দা জানান, রাস্তাঘাট এখন শান্ত দেখা গেলেও মানুষের মুখে চাপা উদ্বেগ স্পষ্ট। সবাই কী যেন একটা আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।
গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, অর্থনৈতিক সংকট আর মুদ্রার মূল্য পড়তির প্রতিবাদে শুরু হয় বিক্ষোভ। পরে সেটি রূপ নেয় সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ধর্মীয় শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণ-আন্দোলনে।
ইন্টারনেট ফেরার স্বস্তি
এতদিনের অবরোধের পর অবশেষে সীমিত আকারে হলেও দেশটিতে মোবাইল ইন্টারনেট চালু করেছে কর্তৃপক্ষ। বিদেশে থাকা কিছু ইরানি এক্টিভিস্ট রয়টার্সকে জানিয়েছেন, শনিবার ভোরে তারা দেশের স্বজনদের আবার বার্তা পাঠাতে পেরেছেন, যা গত এক সপ্তাহে প্রায় অসম্ভব ছিল।