ঢাকা, মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

"খামেনিকে সরাও! ইরানে 'নতুন নেতা' চাইলেন ট্রাম্প, পাল্টা তোপ 'অপরাধী' তকমা"


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ১৮ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৪:০১ পিএম

"খামেনিকে সরাও! ইরানে 'নতুন নেতা' চাইলেন ট্রাম্প, পাল্টা তোপ 'অপরাধী' তকমা"

ইরানে চলমান বিক্ষোভ ও হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি বলেছেন, ইরানে এখন 'নতুন নেতৃত্বের' সময় এসেছে। তার এই বক্তব্য ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে সরানোর এক স্পষ্ট ইঙ্গিত। আর এর জবাবে ইরানও ট্রাম্পকে 'ধ্বংসযজ্ঞের আসল অপরাধী' বলে চিহ্নিত করে পাল্টা আক্রমণ করেছে।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) পলিটিকো পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ইরানে নতুন নেতৃত্ব খোঁজার সময় এসেছে।” তিনি বিক্ষোভ দমনে খামেনির নীতি কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন।

ট্রাম্পের কথায়, “একটি দেশের নেতা হিসেবে তিনি যা করেছেন, তা দেশের জন্য পুরো একটি ধ্বংসযজ্ঞ। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে যে পরিমাণ সহিংসতা হয়েছে, তা আগে কখনো দেখা যায়নি।”

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট তার নিজের উদাহরণ টেনে বলেন, “দেশকে সঠিকভাবে চালানোর জন্য—যদিও এটি খুবই নিচু লেভেলের কাজ—ইরানের নেতাদের দেশ পরিচালনায় মনোযোগ দেওয়া উচিত। যেমনটা আমি যুক্তরাষ্ট্রে করি।” তিনি যোগ করেন, “দেশের নিয়ন্ত্রণ রাখতে কয়েক হাজার মানুষকে হত্যা করা নেতৃত্ব নয়। নেতৃত্ব মানে শ্রদ্ধা, ভয় বা মৃত্যুর বিষয় নয়।”

ট্রাম্পের এই বক্তব্যের আগেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি তাকে কঠোর ভাষায় জবাব দিয়েছিলেন। খামেনি ট্রাম্পকে 'অপরাধী' আখ্যা দিয়ে বলেন, ইরানের জনগণের ওপর যে ধ্বংসযজ্ঞ নেমে এসেছে, তার জন্য সরাসরি দায়ী যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্যক্তিগতভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই।

এই বাকযুদ্ধে আন্তর্জাতিক স্তরে ইরান ইস্যুটি আবারও তীব্র হয়ে উঠেছে। ট্রাম্পের 'নতুন নেতৃত্ব' ডাক আর খামেনির 'অপরাধী' তকমা— দুই পক্ষের এই মুখোমুখি অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এখন দেখার বিষয়, এই বাক্যুদ্ধ কি কোনও কার্যকর কূটনৈতিক বা রাজনৈতিক পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যাবে, নাকি শুধুই কাগুজে তরবারিই চলবে।