ঢাকা, মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

"ইরানের জবাবী হামলার ভয়ে পিছু হটল যুক্তরাষ্ট্র! ইরাকের আইন আল-আসাদ বিমানঘাঁটি খালি করল মার্কিন সেনারা"


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ১৮ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৪:০১ পিএম

"ইরানের জবাবী হামলার ভয়ে পিছু হটল যুক্তরাষ্ট্র! ইরাকের আইন আল-আসাদ বিমানঘাঁটি খালি করল মার্কিন সেনারা"

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন এলো। ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ আইন আল-আসাদ বিমান ঘাঁটি থেকে চলে গেল যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা। তাদের সাথে ঘাঁটি ছাড়ল আমেরিকা নেতৃত্বাধীন জোটের অন্যান্য দেশের সৈন্যদেরও। এখন পুরো ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে ইরাকি সেনাবাহিনী। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ইরাকের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই খবর নিশ্চিত করেছে।

এই ঘাঁটি ত্যাগের পেছনে রয়েছে এক রক্তক্ষয়ী ইতিহাস। ২০২০ সালে বাগদাদে ইরানের শীর্ষ কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে ড্রোন হামলায় হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র। তার জবাবেই ইরান আইন আল-আসাদ ঘাঁটিতে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। সেই হামলা এতটাই তীব্র ছিল যে, ঘাঁটিটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সেখানে থাকা বহু মার্কিন সেনার মধ্যে গুরুতর মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। অনেক বিশ্লেষক এই ঘটনাকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক দুর্বলতার প্রমাণ বলে উল্লেখ করেন।

২০২৪ সালে ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সেনা প্রত্যাহার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেই চুক্তির ধারাবাহিকতাতেই এবার ঘাঁটিটি ছাড়তে বাধ্য হয় মার্কিন বাহিনী। এটি একটি পরিকল্পিত প্রত্যাহার হলেও, এর পেছনে ইরানের সামরিক হুমকির ভূমিকাকে অস্বীকার করা যায় না।

ইরাকি সেনাবাহিনীর এক কর্নেল নিশ্চিত করেছেন যে মার্কিন সেনারা মূলত ঘাঁটি ছেড়ে চলে গেছে। তবে, এখনও অল্প কয়েকজন সেখানে রয়েছেন যারা শুধুমাত্র লজিস্টিক সরঞ্জাম সরানোর কাজ করছেন। এই কাজ শেষ হলেই তারা পুরোপুরি চলে যাবেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি আরও বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র কখন থেকে এই প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শুরু করেছিল, সে সম্পর্কে স্পষ্ট কোনও তথ্য নেই। তবে এর আগে খবর বেরিয়েছিল যে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে শত শত মার্কিন সেনা এখান থেকে সরে যাবে এবং ২০২৬ সালের মধ্যেই পুরো ঘাঁটি পুরোপুরি খালি হয়ে যাবে। এখন দেখা যাচ্ছে, সময়表的 আগেই তারা প্রায় পুরো কাজ শেষ করেছে।