ঢাকা, মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজিত করেছি!" ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ঘোষণায় তোলপাড়"


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ১৯ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৮:০১ পিএম

আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজিত করেছি!" ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ঘোষণায় তোলপাড়"

দেশব্যাপী বিক্ষোভ দমনের পর যেন জয়ের ঘোষণা দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দাবি করেছেন, ইরানের গণবিক্ষোভ সফলভাবে দমন করে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জয়লাভ করেছে। তার এই বক্তব্য বিশ্ব রাজনীতিতে নাড়া দিয়েছে। খামেনির দাবি, এই পুরো অস্থিরতার পেছনে সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হাত ছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইরানের জনগণই বিজয়ী হয়েছে।

কী ছিল শুরুর ঘটনা?

গত ডিসেম্বরের শেষদিকে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও নানা অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে ইরানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ শুরু হয়। সেই বিক্ষোভ দ্রুতই সরকারবিরোধী আন্দোলনের রূপ নেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের হাজার হাজার মানুষ নিহত হন। ইরান সরকার দাবি করেছে, এখন পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং প্রধান প্রধান শহরগুলোতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরতে শুরু করেছে।

সামাজিক মাধ্যমে খামেনির বিস্ফোরক দাবি

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সামাজিক মাধ্যম এক্স (পূর্বের টুইটার)-এ একাধিক পোস্টে খামেনি এই অস্থিরতার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করেন। তার ভাষায়, এই ষড়যন্ত্রের মূল হোতা ছিল ওয়াশিংটন।

খামেনি লিখেছেন, "এই রাষ্ট্রদ্রোহ ঘটানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে বড় প্রস্তুতি নিয়েছিল। এটা ছিল আরও বড় একটি পরিকল্পনার শুরু মাত্র। কিন্তু ইরানি জাতি যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজিত করেছে।"

ট্রাম্পকেও অভিযুক্ত করলেন

খামেনি আরও জোর দিয়ে বলেন, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই ষড়যন্ত্রের সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি ট্রাম্পের সেই বক্তব্যের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, 'সাহায্য আসছে'। পাশাপাশি তিনি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের ঘটনাকেও এই চক্রান্তের অংশ হিসেবে দাবি করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের 'আসন্ন' হামলার গুঞ্জন

এদিকে, রয়টার্স সংবাদসংস্থা বুধবার একটি প্রতিবেদনে জানায়, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা 'আসন্ন' ছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। পরে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান সরকার বিক্ষোভের সময় আটক হওয়া লোকজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তিনি হামলার পরিকল্পনা বাতিল করেন।

'জবাবদিহি করতে হবে'

খামেনি তার বার্তায় বলেন, "হ্যাঁ, আমরা সহিংসতার আগুন নিভিয়ে দিয়েছি। কিন্তু সেটাই শেষ কথা নয়। যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই এর জন্য জবাবদিহি করতে হবে।"

তিনি একইসাথে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, ইরান সরকার দেশকে কোনো যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে চায় না। তবে একটি সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, "ইরানের ভেতরে বা বাইরে যারা অপরাধ করেছে, তাদের আমরা ছেড়ে দেব না।"