ঢাকা, মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

গাজায় রক্তপাত চলছেই, তবু ইসরায়েলে নিউইয়র্কের করের টাকা? পেনশন ফান্ডে নতুন বিতর্ক তুঙ্গে


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ২০ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৬:০১ পিএম

গাজায় রক্তপাত চলছেই, তবু ইসরায়েলে নিউইয়র্কের করের টাকা? পেনশন ফান্ডে নতুন বিতর্ক তুঙ্গে

গাজায় চলমান গণহত্যা এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে বর্ণবাদী ব্যবস্থা বজায় রাখার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও নিউইয়র্ক নগরের পেনশন ফান্ড আবার ইসরায়েলের সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ করতে পারে—এমন আশঙ্কা নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে নিউইয়র্কবাসীর করের অর্থ সরাসরি ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় কোষাগারে চলে যাবে বলে সমালোচকদের অভিযোগ।

গত শনিবার যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী দৈনিক ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস এক প্রতিবেদনে জানায়, নিউইয়র্ক নগর কর্তৃপক্ষ ইসরায়েলি সরকারি বন্ডে বিনিয়োগের বিষয়টি নতুন করে বিবেচনা করছে। বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে, কারণ বর্তমান মেয়র জোহরান মামদানি গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে সেখানে বিনিয়োগ প্রত্যাহারের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন।

নিউইয়র্ক নগরের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) মার্ক লেভিন ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, “ইসরায়েলি বন্ডের পারফরম্যান্স ভালো এবং বিনিয়োগ মানও শক্তিশালী। আগের ফলাফলের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়াই আমার দায়িত্ব।”

ইসরায়েলি সরকারি বন্ড মূলত রাষ্ট্রকে সরাসরি দেওয়া একধরনের ঋণ। এর বিনিময়ে বিনিয়োগকারীরা সুদ পান, আর ইসরায়েল সরকার সরাসরি অর্থ হাতে পায়। সমালোচকদের মতে, এই অর্থ কার্যত যুদ্ধ ও দমন-পীড়নের অর্থ জোগান দেওয়ার সমান।

তাদের ভাষ্য, এমন বিনিয়োগ মানে ইসরায়েলের বর্ণবাদী নীতি, অবৈধ বসতি স্থাপন, ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ এবং গাজা ও পশ্চিম তীরে বেসামরিক মানুষ হত্যার আর্থিক সহায়তা দেওয়া। ফলে বিষয়টি শুধু অর্থনৈতিক নয়, বড় ধরনের নৈতিক প্রশ্নও তৈরি করছে।

নিউইয়র্ক নগর কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগ সিটি হলের ভেতরেও উত্তেজনা বাড়াতে পারে। কারণ, ১ জানুয়ারি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর জোহরান মামদানির প্রথম সিদ্ধান্তগুলোর একটি ছিল সাবেক মেয়র এরিক অ্যাডামসের সেই আদেশ বাতিল করা, যেখানে শহরের বিভিন্ন সংস্থাকে ইসরায়েল বর্জন বা সেখান থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহার করতে নিষেধ করা হয়েছিল।

ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি হামলার দীর্ঘদিনের সমালোচক মামদানি আগেই বলেছিলেন, “নিউইয়র্কের কোনো তহবিলই আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত কর্মকাণ্ডে বিনিয়োগ করা উচিত নয়।”

অন্যদিকে মার্ক লেভিন স্বীকার করেছেন, তিনি নিজে ইহুদি এবং ইসরায়েলের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। তবে তাঁর দাবি, পেনশন তহবিলের বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত রাজনীতির বাইরে রাখা উচিত এবং তা কেবল আর্থিক মানদণ্ডের ভিত্তিতেই হওয়া দরকার।