ঢাকা, মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

ইরান ইস্যুতে উত্তাপ! প্রতিবাদকে সামনে রেখে সামরিক হামলার নীলনকশা আঁকছে ট্রাম্প প্রশাসন


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ২২ জানুয়ারী, ২০২৬, ০২:০১ পিএম

ইরান ইস্যুতে উত্তাপ! প্রতিবাদকে সামনে রেখে সামরিক হামলার নীলনকশা আঁকছে ট্রাম্প প্রশাসন

ইরানের বিরুদ্ধে ‘চূড়ান্ত ও নির্ণায়ক’ সামরিক বিকল্প খুঁজে বের করতে নিজের উপদেষ্টাদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সপ্তাহে সম্ভাব্য হামলা থেকে কিছুটা পিছিয়ে এলেও, হোয়াইট হাউসের ভেতরে ইরানকে লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা থামেনি—এমনটাই জানিয়েছে একটি প্রভাবশালী মার্কিন গণমাধ্যম।

এই আলোচনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ানো হচ্ছে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ চীন সাগর থেকে পশ্চিম দিকে পারস্য উপসাগরের উদ্দেশে এগোতে দেখা গেছে একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী। পাশাপাশি, রোববার জর্ডানে অবতরণ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান।

প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো পদক্ষেপে ট্রাম্প বারবার “ডিসাইসিভ” বা চূড়ান্ত ফল চান—এই শব্দটাই তিনি ব্যবহার করছেন। এই চাপের কারণেই হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগনের কর্মকর্তারা একাধিক সামরিক দৃশ্যপট প্রস্তুত করছেন।

আনাদোলু এজেন্সির অনলাইন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এসব বিকল্পের মধ্যে এমন পরিকল্পনাও রয়েছে, যা সরাসরি ইরানের নেতৃত্ব পরিবর্তনের চেষ্টা করতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখনো ইরানের বিরুদ্ধে হামলার চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি ট্রাম্প, আর তাঁর সিদ্ধান্ত এখনো অনিশ্চিত। তবে চলমান আলোচনা স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে, তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসনের পথ পুরোপুরি বাতিল করেননি তিনি।

এদিকে, গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে ইরানে অর্থনৈতিক চাপ ও স্থানীয় মুদ্রা রিয়ালের বড় ধরনের অবমূল্যায়নের জেরে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে এই প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ দাবি করেছে, এসব সহিংসতায় হাজার হাজার মানুষ হতাহত হয়েছেন। যদিও ইরান সরকার শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছে, এই অস্থিরতার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মদদ রয়েছে, আর তারা এটিকে ‘সশস্ত্র দাঙ্গা’ হিসেবে বর্ণনা করছে।