ঢাকা, সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২৬ | ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

স্টুপিড' বললেন ট্রাম্প! দাভোসে বসে আক্রমণ পুতিন-জেলেনস্কির ওপর, শান্তিচুক্তি না করলে নির্বোধ"


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ২২ জানুয়ারী, ২০২৬, ০২:০১ পিএম

স্টুপিড' বললেন ট্রাম্প! দাভোসে বসে আক্রমণ পুতিন-জেলেনস্কির ওপর, শান্তিচুক্তি না করলে নির্বোধ"

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের মঞ্চে দাঁড়িয়ে এবার সরাসরি আক্রমণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। তিনি বলেছেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের নেতারা যদি শান্তি চুক্তি করতে না পারেন, তাহলে তারা 'স্টুপিড' বা নির্বোধ। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বুধবার এক দীর্ঘ ভাষণে তিনি এই মন্তব্য করেন, যার বেশিরভাগটাই ছিল বিতর্কিত।

প্রায় এক ঘণ্টা দশ মিনিটের বক্তব্যে ট্রাম্প দাবি করেন, যুদ্ধ এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে শান্তিচুক্তি করা সম্ভব, কিন্তু দুই নেতার অনড় অবস্থানের কারণে তা আটকে আছে। দাভোসের মঞ্চে তিনি বলেন, "আমি মনে করি আমরা একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি। তারা এখন এমন জায়গায় আছে, যেখান থেকে এক হয়ে চুক্তি সম্পন্ন করা যায়। আর যদি তারা তা না করে, তাহলে তারা স্টুপিড। আমি জানি তারা আসলে নির্বোধ নন, কিন্তু এই সমাধান করতে না পারলে তাদের নির্বোধই বলতে হবে।"

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি উভয়ের সঙ্গেই নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং তার বিশ্বাস, দুজনই কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে চান। মজার বিষয় হলো, ভাষণের মধ্যেই তিনি দাবি করেন, "আমি আজ জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করব। তিনি সম্ভবত এখন এই হলের দর্শক সারিতেই বসে আছেন।"

কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই সম্মেলনে উপস্থিতই ছিলেন না। তার অফিস এবং তার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়, তিনি বর্তমানে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভেই অবস্থান করছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রুশ হামলার পর দেশটির জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জেলেনস্কি কিয়েভে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করছেন। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ট্রাম্পের সাথে সত্যিকারের 'ফলপ্রসূ' আলোচনার নিশ্চয়তা না পাওয়ায় জেলেনস্কি দাভোস যাওয়ার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত করেননি।

ট্রাম্পের এই বক্তব্য যুদ্ধ নিরসনের চেয়ে বরং নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। একদিকে তিনি শান্তি চুক্তির কথা বলছেন, অন্যদিকে প্রতিপক্ষ নেতাদের 'স্টুপিড' বলছেন, যা কূটনৈতিক শিষ্টাচারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এখন দেখা যাক, এই মন্তব্যের পর আসল শান্তি আলোচনার পথে কোনো অগ্রগতি হয় কিনা, নাকি পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।