ঢাকা, মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

জাতিসংঘে তেহরানের কড়া বার্তা: এনপিটি লঙ্ঘন করে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ২২ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৬:০১ পিএম

জাতিসংঘে তেহরানের কড়া বার্তা: এনপিটি লঙ্ঘন করে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল

জেনেভায় জাতিসংঘ কার্যালয়ে নিরস্ত্রীকরণবিষয়ক সম্মেলনে স্পষ্ট ও কঠোর অবস্থান তুলে ধরেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি আলী বাহরাইনি জানিয়ে দিয়েছেন—শান্তিপূর্ণ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার থেকে তেহরান কখনোই সরে আসবে না। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দেওয়া এই বক্তব্যে ইরানের পারমাণবিক নীতির বিষয়টি আবারও আন্তর্জাতিক মহলে পরিষ্কার করে তুলে ধরেন তিনি।

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানান বাহরাইনি। তার ভাষায়, এসব হামলা জাতিসংঘ সনদ, আন্তর্জাতিক আইন এবং পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি)—সবকিছুরই সরাসরি লঙ্ঘন। তিনি বলেন, এ ধরনের আগ্রাসন শুধু ইরানের জন্য নয়, বরং পুরো বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য ভয়াবহ হুমকি।

২০২৫ সালের ঘটনাপ্রবাহের কথা উল্লেখ করে বাহরাইনি বলেন, ১৩ জুন ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার ওপর ইসরায়েলি সরকারের হামলা ছিল অবৈধ, পূর্বপরিকল্পিত এবং আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। এর ধারাবাহিকতায় ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে সমন্বয় করে—যারা নিজেরাই এনপিটির সদস্য নয়—ফোরদো, নাতানজ ও ইসফাহানে ইরানের সুরক্ষিত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়।

বাহরাইনির মতে, এসব হামলা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা এবং পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান জাতিসংঘ সনদের কাঠামোর মধ্য থেকেই যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দেবে।

ইরানের প্রতিনিধি আরও স্পষ্ট করে বলেন, শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এনপিটির সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে ইরানের অবিচ্ছেদ্য অধিকার। এই অধিকার থেকে তেহরান কখনো সরে আসবে না। একই সঙ্গে তিনি জানান, কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই এবং পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে প্রকৃত আলোচনার জন্য ইরান সব সময় প্রস্তুত।

তার ভাষায়, ইরানের সমৃদ্ধকরণের বিরোধিতা মানে আসলে এনপিটির একজন সদস্য রাষ্ট্রের স্বীকৃত অধিকারকে অস্বীকার করা। তেহরানের অবস্থান পরিষ্কার—আইনের পথে থেকেও যদি তাদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তাহলে সেই দ্বিচারিতার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মঞ্চে লড়াই চালিয়ে যাবে ইরান।