ঢাকা, সোমবার, জুলাই ১৩, ২০২৬ | ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে পিছু হটলেন ট্রাম্প! শুল্ক যুদ্ধের হুমকি তুলে নেওয়া, নতুন 'কাঠামো'র প্রস্তাব"


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ২২ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৭:০১ পিএম

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে পিছু হটলেন ট্রাম্প! শুল্ক যুদ্ধের হুমকি তুলে নেওয়া, নতুন 'কাঠামো'র প্রস্তাব"

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে উত্তেজনার পর এবার শান্তির ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর শুল্ক যুদ্ধের হুমকি তুলে নেওয়ার পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, ন্যাটোর সাথে আলোচনার পর গ্রিনল্যান্ড ও পুরো আর্কটিক অঞ্চল নিয়ে একটি সম্ভাব্য চুক্তির 'কাঠামো' তৈরি হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো দেশগুলোর জন্য ভালো হবে বলে তার দাবি।

ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, ন্যাটো মহাসচিবের সাথে তার "খুবই ফলপ্রসূ বৈঠক" হয়েছে। এই বৈঠকের ফলেই গ্রিনল্যান্ড ও আর্কটিক নিয়ে একটি সম্ভাব্য চুক্তির প্রাথমিক রূপরেখা তৈরি হয়েছে। ন্যাটোও এই বৈঠককে 'ফলপ্রসূ' বলে মন্তব্য করেছে এবং বলেছে, এই কাঠামো আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় দৃষ্টি রাখবে।

এর আগে, দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে ট্রাম্প বলেছিলেন, গ্রিনল্যান্ডের ব্যাপারে তিনি সামরিক শক্তি ব্যবহার করবেন না, কিন্তু আলোচনার পথ খোলা রাখবেন। এবার তিনি সেই ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর দেওয়া শুল্ক যুদ্ধের হুমকিও তুলে নিলেন, যারা গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার বিরোধিতা করেছিল।

ট্রাম্পের প্রস্তাবিত এই 'কাঠামো'য় গ্রিনল্যান্ডের উপর সরাসরি মার্কিন মালিকানা থাকবে কিনা, তা তিনি স্পষ্ট করেননি। তবে, একটি মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, আর্কটিক অঞ্চলের খনিজ সম্পদের অধিকার এই চুক্তির একটি বড় অংশ হতে পারে। তিনি বলেছেন, আলোচনা এগোলে ধাপে ধাপে আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ তাকে সরাসরি রিপোর্ট দেবেন।

এদিকে, গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্বের দেশ ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বলেন, "দিনটি যেভাবে শুরু হয়েছিল, তার চেয়ে অনেক ভালোভাবেই শেষ হচ্ছে।" তার এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, ট্রাম্পের হুমকি প্রত্যাহার এবং আলোচনার কথা জানাতে ডেনমার্ক সরকার স্বস্তি পেয়েছে।

ট্রাম্পের এই পিছু হটা দেখে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনেকেই স্বস্তি পেয়েছেন। এখন দেখা যাক, গ্রিনল্যান্ড ও আর্কটিক নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ন্যাটো এবং ডেনমার্কের মধ্যে প্রকৃত আলোচনা কতটা এগোয় এবং তা থেকে কোনো স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধান আসে কিনা।