এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারী, ২০২৬, ০২:০১ পিএম
ঢাকায় নিযুক্ত ইরান দূতাবাসের সাংস্কৃতিক কাউন্সেলর সাইয়্যেদ রেজা মীর মোহাম্মাদী দাবি করেছেন, ইরানের সরকার উৎখাতের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল একটি বড় ধরনের ষড়যন্ত্র করেছিল। তবে ইরানের জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে রাস্তায় নেমে সেই চক্রান্ত ব্যর্থ করে দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ঢাকার ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। রেজা মীর জানান, ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী দুই সপ্তাহব্যাপী বিক্ষোভে মোট ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন।
তিনি বলেন, নিহতদের মধ্যে ২ হাজার ৪২৭ জন ছিলেন সরকারপন্থি নাগরিক, যাদের সরকারিভাবে শহীদ ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে সরকারবিরোধী অবস্থানে থাকা প্রায় ৬০০ বিক্ষোভকারীও নিহত হয়েছেন।
বিক্ষোভের সময় দেশজুড়ে ব্যাপক সহিংসতা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয় বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী—
৭৫০টি ব্যাংক ও বীমা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে,
৩৫০টি মসজিদে আগুন দেওয়া হয়েছে,
৭০০টি মার্কেট ও প্যালেস ভাঙচুর করা হয়েছে,
৩০৫টি বাস, ৮০০টি প্রাইভেট কার ও ৬০০টি এটিএম বুথ ধ্বংস হয়েছে,
এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৫০টি বাস স্টেশন ও ৮০৯টি মাদ্রাসা।
রেজা মীর বলেন, ১ জানুয়ারি থেকে ব্যবসায়ীরা প্রথমে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ শুরু করেছিলেন। ডলার ও ইউরোর বিপরীতে ইরানি মুদ্রার দরপতনের কারণে তারা সরকারের কাছে সমাধান চাইছিলেন। কিন্তু পরে ওই আন্দোলনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইন্ধন দেয় এবং বিক্ষোভ দ্রুত তেহরানের বাইরে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে কিছু গোষ্ঠী লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এমনকি মসজিদে হামলায় জড়িয়ে পড়ে।
তিনি আরও জানান, ১২ জানুয়ারি থেকে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাস্তায় নামলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। শুধু তেহরানেই প্রায় ৩০ লাখ মানুষ সরকারপক্ষে বিক্ষোভে অংশ নেয়। আর সারাদেশে এই সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখে, যা বিদেশি ষড়যন্ত্রকে পুরোপুরি ব্যর্থ করে দেয়।
রেজা মীর বলেন, “পশ্চিমা গণমাধ্যমের খবর দেখলে মনে হতে পারে ইরান সরকারের পতন হয়ে গেছে। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইরানের জনগণের ঐক্য ও সচেতনতার কারণেই এই বিদেশি ষড়যন্ত্র সফল হয়নি।”
বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ‘রেজিম চেঞ্জ’ রাজনীতির বিরুদ্ধে ইরানের অবস্থানকে আরও স্পষ্ট ও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরেছে।