ঢাকা, মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

আরব বিশ্বে লুকানো শত্রু! আমিরাত ইসরায়েলের 'ট্রোজান ঘোড়া' হয়ে উঠেছে, সৌদি বিশ্লেষকের বিস্ফোরক অভিযোগ ফাঁস


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ২৪ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৬:০১ পিএম

আরব বিশ্বে লুকানো শত্রু! আমিরাত ইসরায়েলের 'ট্রোজান ঘোড়া' হয়ে উঠেছে, সৌদি বিশ্লেষকের বিস্ফোরক অভিযোগ ফাঁস

মধ্যপ্রাচ্য আর আরব বিশ্বে ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষায় সংযুক্ত আরব আমিরাত 'ট্রোজান ঘোড়া'র মতো কাজ করছে—এমন চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন সৌদি আরবের শূরা কাউন্সিলের সাবেক সদস্য ড. আহমেদ বিন উসমান আল-তুয়াইজিরি।

 তার দাবি, ইসরায়েলের প্রভাব ছড়ানো আর পুরো অঞ্চলকে অস্থির করতে আমিরাত সরাসরি হাত লাগিয়ে সাহায্য করছে।
শুক্রবার ২৩ জানুয়ারি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটর জানায়, এক প্রবন্ধে এসব কথা লিখেছেন সৌদি শূরা কাউন্সিলের এই সাবেক সদস্য।

ড. আল-তুয়াইজিরি তার লেখায় গ্রিক পুরাণের সেই বিখ্যাত 'ট্রোজান ঘোড়া'র গল্প টেনে এনেছেন। প্রায় সাড়ে তিন হাজার বছর আগে প্রাচীন ট্রয় শহর দখল করতে গ্রিক সেনারা ১০ বছর ধরে অবরোধ করেও ব্যর্থ হয়। পরে তারা চালাকি করে একটা বিশাল কাঠের ঘোড়া বানায়, যার ভেতরে গোপনে সৈন্য লুকিয়ে রাখে। বাকি সেনারা যুদ্ধ ছেড়ে চলে যাওয়ার ভান করে জাহাজে উঠে পড়ে।

ট্রয়ের লোকেরা কাঠের ঘোড়াটাকে বিজয়ের চিহ্ন ভেবে শহরের ভেতরে নিয়ে আসে। রাত গভীর হলে ঘোড়ার ভেতর থেকে প্রায় ৩০ জন গ্রিক সেনা বেরিয়ে এসে মূল ফটক খুলে দেয়। তারপর বিশাল গ্রিক বাহিনী শহরে ঢুকে ট্রয় দখল করে আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়। সেই থেকে 'ট্রোজান ঘোড়া' বিশ্বাসঘাতকতা আর ষড়যন্ত্রের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

এই গল্প টেনে ড. আল-তুয়াইজিরি লিখেছেন, সৌদি আরব আর আরব বিশ্বের বড় শক্তিগুলোকে চ্যালেঞ্জ করতেই আমিরাত ইসরায়েলের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে।

তার কথায়, ইসরায়েলের সঙ্গে আমিরাতের এই ঘনিষ্ঠতা আসলে সৌদি আরবের প্রতি শত্রুতা, সৌদির ধর্মীয়, ভূরাজনৈতিক আর অর্থনৈতিক প্রভাবের প্রতি ঈর্ষা থেকে জন্ম নিয়েছে। একই সঙ্গে আমিরাত নিজেকে এই অঞ্চলের সবচেয়ে প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে চাইছে।

তিনি আরও দাবি করেন, ইসরায়েল আর আমিরাতের এই সম্পর্ক আরব আর মুসলিম ঐক্যের বিরুদ্ধে একটা সুপরিকল্পিত বিশ্বাসঘাতকতা। তার ভাষায়, “আমিরাত কার্যত নিজেকে ইহুদিবাদের হাতে সমর্পণ করেছে।”

প্রবন্ধে তিনি উল্লেখ করেন, ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের চালানো ভয়ংকর সামরিক হামলায় আমিরাত সরাসরি সাহায্য করেছে। শুধু তাই নয়, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর ওপর আক্রমণ চালাতে আমিরাত তাদের লোহিত সাগর আর হর্ন অব আফ্রিকায় থাকা সামরিক ঘাঁটি ইসরায়েলকে ব্যবহার করতে দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এছাড়া ইয়েমেন, লিবিয়া, সুদান, তিউনিশিয়া, মিসর আর সোমালিয়াকে অস্থির করতেও আমিরাত সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রেখেছে বলে অভিযোগ করেন সৌদি শূরা কাউন্সিলের এই সাবেক সদস্য।