ঢাকা, মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

গাজায় রক্তপাতের পেছনের শক্তিরা মানবাধিকার শেখাতে পারে না—ইসরায়েল ও পশ্চিমাদের কড়া বার্তা ইরানের


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ২৪ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৬:০১ পিএম

গাজায় রক্তপাতের পেছনের শক্তিরা মানবাধিকার শেখাতে পারে না—ইসরায়েল ও পশ্চিমাদের কড়া বার্তা ইরানের

গাজায় ইসরায়েলের চালানো রক্তক্ষয়ী অভিযানে যারা প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করছে, তারা কখনোই নিজেদের ‘মানবাধিকারপন্থী’ দাবি করতে পারে না—আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এমন কঠোর ও স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেছে ইরান। পশ্চিমা দেশগুলো যখন মানবাধিকার ইস্যুতে তেহরানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে, ঠিক সেই সময়েই পাল্টা এই বার্তা দিল ইরানি কর্তৃপক্ষ।

ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যারা সমর্থন জোগাচ্ছে, তারা মানবাধিকারের মুখোশ পরে নিজেদের নৈতিক অভিভাবক হিসেবে তুলে ধরার কোনো অধিকার রাখে না। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা শক্তিগুলোর ইরানবিরোধী মানবাধিকার আলোচনা ও সমালোচনার জবাব হিসেবেই এই বক্তব্য দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইরানি প্রতিনিধিরা স্পষ্ট করে বলেন, মানবাধিকারের কথা বলার আগে পশ্চিমা দেশগুলোর উচিত গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসন, নির্বিচার হত্যা এবং ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে নিজেদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা। তাদের অভিযোগ, পশ্চিমা বিশ্ব ইসরায়েলের গাজা অভিযানে চোখ বন্ধ করে রেখে পরিকল্পিতভাবে ইরানকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।

এই মন্তব্য এমন এক সময় সামনে এলো, যখন জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং পশ্চিমা দেশগুলো ইরানে বিক্ষোভ দমন ও নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করছে। তেহরানের দাবি, এসব সমালোচনার আড়ালে ইসরায়েলের যুদ্ধাপরাধ আড়াল করা হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্পষ্ট দ্বৈতমানদণ্ড প্রয়োগ করা হচ্ছে।

ইরান আরও বলেছে, ইসরায়েলের আগ্রাসন এবং তাকে সমর্থন দেওয়া রাষ্ট্রগুলোর ভূমিকা মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এসব চাপ ও সমালোচনা নৈতিকতার প্রশ্ন নয়, বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কৌশলের অংশ—যার মাধ্যমে ইসরায়েলকে দায়মুক্তি দেওয়া হচ্ছে।

তেহরানের ভাষায়, যারা অপরাধের পাশে দাঁড়ায়, তারা কখনোই মানবাধিকারের ধারক হতে পারে না—এটাই বাস্তব সত্য।