ঢাকা, মঙ্গলবার, জুলাই ১৪, ২০২৬ | ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
Logo
logo

তিন সপ্তাহ ধরে ইন্টারনেট বন্ধ ইরানে! অনলাইন ব্যবসা ধ্বংস, জনগণের জীবন চরম বিপর্যয়ে


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬, ১০:০১ এএম

তিন সপ্তাহ ধরে ইন্টারনেট বন্ধ ইরানে! অনলাইন ব্যবসা ধ্বংস, জনগণের জীবন চরম বিপর্যয়ে

ইরানের অর্থনীতি তো আগে থেকেই চরম সংকটে—উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আর মুদ্রার দামের ভয়াবহ পতনের কারণে। এর মধ্যে নতুন করে বড় ধাক্কা খেয়েছে দেশটি ইন্টারনেট শাটডাউনের কারণে। প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে বৈশ্বিক ইন্টারনেট থেকে প্রায় পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন থাকার পর কিছু ব্যবহারকারী সাময়িকভাবে সংযোগ পেলেও তা আবার দ্রুত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এই অনিশ্চয়তায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অনলাইন ব্যবসা, যা অনেক ইরানি পরিবারের জন্য শেষ ভরসা ছিল।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনাল জানিয়েছে, সরকারবিরোধী বিক্ষোভের কারণে ইন্টারনেট বন্ধের সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন ছোট অনলাইন উদ্যোক্তারা। ইনস্টাগ্রাম দিয়ে পর্দা বিক্রি করা এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে একটা অর্ডারও পাইনি। আমাদের কোনো দোকান নেই। ঘর থেকেই অনলাইনে ব্যবসা চালাই। ইন্টারনেটই ছিল একমাত্র ভরসা।”
এই কথা হাজার হাজার ইরানি অনলাইন বিক্রেতার বাস্তব চিত্র তুলে ধরছে।

ইরানের ডিজিটাল অর্থনীতির বড় অংশই ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ আর টেলিগ্রামের ওপর নির্ভরশীল। ফারসি গণমাধ্যমের হিসাবে, দেশে ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী ৩ কোটিরও বেশি। প্ল্যাটফর্মটা আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ হলেও ভিপিএন দিয়ে এটা ইরানের অনলাইন বাজারের মূল স্তম্ভ হয়ে উঠেছে।
৩৪ বছর বয়সী এক নারী, যিনি ঘরে বসে কুকিজ আর পেস্ট্রি বানিয়ে অনলাইনে বিক্রি করতেন, বলেন, “বেতন দিয়ে সংসার চলে না বলে অনলাইন ব্যবসা শুরু করেছিলাম। এখন সেই সামান্য আশাটুকুও নেই।”

ক্রেতারাও চরম বিপাকে পড়েছেন। ইন্টারনেট বন্ধের আগে অনলাইন দোকান থেকে তুলনামূলক কম দামে পণ্য পাওয়া যেত, যা ৪২ শতাংশ মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা মানুষের জন্য বড় স্বস্তি ছিল। তেহরানের এক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পরিস্থিতি ভালো করার আশায় আমরা প্রতিবাদে নেমেছিলাম। এখন আমাদের সন্ত্রাসী বানিয়ে স্বাভাবিকভাবে বাঁচার শেষ আশাটুকুও কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।”